ক্যাম্পাস

রাবির জিয়া হলের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই গঠনের উদ্যোগ

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাবির জিয়া হলের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই গঠনের উদ্যোগ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

‘একটা হল হাজারো স্মৃতি আর অসংখ্য প্রিয় মানুষ’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হল সংসদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। এতে হলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নিজ নিজ ব্যাচ, রুমমেট, বন্ধু ও পরিচিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে ফর্মটি পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


রেজিস্ট্রেশন ফর্মে বলা হয়েছে, কেউ ছিলেন রুমমেট, কেউ সহপাঠী, কেউ জুনিয়র বা সিনিয়র আবার কেউ হয়ে উঠেছেন জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সময়ের ব্যবধানে অনেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেও শহীদ জিয়াউর রহমান হল তাদের সম্পর্কের সেই বন্ধন আজও ধরে রেখেছে। হলের আবাসিক কিংবা অনাবাসিক যে ব্যাচেরই হোন না কেন, প্রত্যেকেই এই পরিবারের একজন।


আয়োজকরা জানান, পুরোনো বন্ধনকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে বের করা এবং হলজীবনের স্মৃতি ভাগাভাগি করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অনলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একটি নিবন্ধনের মাধ্যমে বহু বছর আগের প্রিয় মুখের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।


এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হক বলেন, “হল সংসদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষক ও জিয়া হলের সাবেক সিনিয়র ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলছি। এভাবেই সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”


তিনি আরও বলেন, “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা। অর্থের অভাবে আমরা হলের অনেক কাজ করতে পারছি না। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হলে এর মাধ্যমে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে যে যোগাযোগ ও লিংক থাকা দরকার, সেটি তৈরি হলে চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সহযোগিতা ও সুবিধা পেতে পারে।”


জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান বলেন, “সদস্য সংগ্রহের জন্য আমরা রেজিস্ট্রেশন শুরু করেছি। সদস্য সংগ্রহের পর অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠান কখন এবং কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


তিনি আরও বলেন, “আমাদের হলের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত আছেন। তারা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে অংশগ্রহণ করলে বর্তমান শিক্ষার্থীরা সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ার পাশাপাশি হলের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এটি বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডিং সোর্স হিসেবেও কাজ করতে পারে।


সম্পর্কিত খবর