ক্যাম্পাস

রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছাত্রদলের; তদন্তের দাবি

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছাত্রদলের; তদন্তের দাবি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ফান্ডের টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, খাতবিহীন অর্থ উত্তোলন, আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহিতা, দায়ীদের বিচার এবং অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেশাখা ছাত্রদল।


শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।


স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জনসম্মুখে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা টাকার ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।


আরও বলা হয়, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান এবং রাকসু ফান্ডের অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। খাত না দেখিয়ে টাকা উত্তোলন, ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না করে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


এসময় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো : উত্তোলিত প্রতিটি অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহি, সকল আয়ের-ব্যয়ের হিসাবের জন্য স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা, টাকা উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে জমা, ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ইত্যাদি।


এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএসসহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে কোন টাকা উত্তোলন করে তার বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তলোন করবো। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমানিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যানে টাকাটি ব্যায় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।"


স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, "ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সম্পর্কিত খবর