ক্যাম্পাস

ইতিবাচক পরিবর্তনে বেশি মানুষের নয়, অল্পসংখ্যক দায়িত্বশীল মানুষই যথেষ্ট: জবি উপাচার্য

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ইতিবাচক পরিবর্তনে বেশি মানুষের নয়, অল্পসংখ্যক দায়িত্বশীল মানুষই যথেষ্ট: জবি উপাচার্য- খবরের থাম্বনেইল ফটো

থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অল্পসংখ্যক দায়িত্বশীল মানুষের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) ও বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


উপাচার্য বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয় না; দায়িত্বশীল ও কার্যকর অল্পসংখ্যক মানুষও পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তাই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত সংগঠনগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন।”


বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের মেন্টর ড. মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান আলোচক ড. মল্লিকা রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাবিলা হাসান এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি পিউস সাহা।


অনুষ্ঠানে উপাচার্য বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও বাঁধনকে এ ধরনের মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহ একটি মহৎ মানবিক কাজ। যারা নিঃস্বার্থভাবে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।”


তিনি আরও জানান, অচিরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে, যা দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে কাজ করবে। পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


দিনব্যাপী কর্মসূচিতে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজে সেরা পাঁচজন বিজয়ীকে বিশেষ পুরস্কার ও শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী রক্তদাতাদের জন্য বিনামূল্যে হেপাটাইটিস-বি, অ্যান্টি-এইচবিসিএবি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়াসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক রোগের পরীক্ষা করা হয়।


আয়োজকরা জানান, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।


সম্পর্কিত খবর