জাতীয়
চাঁদপুর–১ (কচুয়া): নিরাপত্তা, সন্ত্রাসমুক্তি ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি—ভিন্ন পথে দুই প্রধান প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর–১ (কচুয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। প্রধান দুই প্রার্থী—বিএনপি মনোনীত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ—নিজ নিজ অবস্থান থেকে কচুয়াকে “নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত” করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
বিএনপি প্রার্থী মিলন: সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতা দমনের অঙ্গীকার
বিএনপি প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন একান্ত সাক্ষাৎকারে কচুয়াকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও হাটবাজার ইজারার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচিত হলে কঠোর হস্তে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে এবং হাটবাজারগুলো ট্যাক্স ফ্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন দর্শনের আলোকে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন। নির্বাচনি আচরণবিধি পালনের বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের শতভাগ শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার সঙ্গে গণভোটের চার দফা সামঞ্জস্যপূর্ণ; এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
জামায়াত প্রার্থী মকবুল আহমেদ: ‘নিরাপদ কচুয়া’ ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যয়
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ কচুয়াকে “নিরাপদ ও উন্নত জনপদ” হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতার পালাবদলে বিরোধী মতাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা, প্রবাসীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
জুলাই সনদ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী বলেন, জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।
নির্বাচন ও ভোটার চিত্র
চাঁদপুর–১ (কচুয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৬ জন; এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৫৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১০টি এবং ভোট কক্ষ ৬৪১টি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কচুয়াবাসীর প্রধান প্রত্যাশা সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ, নৈতিক শাসন ও টেকসই উন্নয়ন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্নেই নির্ধারিত হবে ভোটের রায়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।








