ক্যাম্পাস

গুমের শিকার ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

ইবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

গুমের শিকার ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ  - খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে সন্ধান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রশিবির।


আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।


মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, "ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাস ভাইদের গুমের বিচার দাবিতে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে।"


তিনি বলেন, "২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুমের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৯০০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এখনো ২৫১ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে তারা জীবিত নাকি মৃত, অন্তত তাদের কবরের সন্ধান দিতে হবে।"


তিনি আরও বলেন, "তাদের জনপ্রিয়তার কারণে তৎকালীন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে তাদের গুম করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এসব ঘটনায় জড়িতরা এখনো ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আগের প্রশাসন তদন্ত কমিটি করলেও এর কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রশিবির দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"


ইউসুব আলী বলেন, "ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের গুমের বিচার নিশ্চিত করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নিরপেক্ষ সরকার। আমরা সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।"


উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে গুমের শিকার হন ইবির দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাস। সেখানে র‍্যাব-৪ এর একটি কালো গাড়ি হানিফ পরিবহনের একটি বাস (নম্বর-৩৭৫০) গতিরোধ করে র‍্যাবের পোশাক পরিহিত ৮-১০ জন এবং সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি বাসে উঠে র‍্যাব ও ডিবি পরিচয়ে তাদের নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই রাজধানীর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওয়ালীউল্লাহর নিখোঁজের ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। পরে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর পরিবার পুলিশ, র‍্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে যোগাযোগ করেও তাঁদের সন্ধান না পেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট পিটিশন করেন। পরবর্তীতে রিট দুটিও খারিজ হয়ে যায়।


এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আল-মুকাদ্দাস ও ওয়ালীউল্লাহর নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নানকে আহ্বায়ক এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়।


কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখ দুটি সভা করেন এবং প্রাথমিকভাবে কিছু কাজের খসড়াও প্রস্তুত করেন। তবে পরবর্তী সময়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি পুনর্গঠন বা নতুন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম আর এগোয়নি।



সম্পর্কিত খবর