জাতীয়

ব্যালট পেপারের ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার: শাস্তির বিধান ও আইনি পরিণতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারঃ

ব্যালট পেপারের ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার: শাস্তির বিধান ও আইনি পরিণতি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গোপন বুথে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির জেল-জরিমানাসহ ভোট বাতিলের কঠোর বিধান রয়েছে।


এদিকে, বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো 'ভোটের গোপনীয়তা' রক্ষা করা। কোনো ভোটার যদি তার চিহ্নিত ব্যালট পেপারের ছবি তোলেন বা সেটি প্রকাশ করেন, তবে তা সরাসরি এই আইনের লঙ্ঘন।


আইনজীবীদের মতে, এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধের ধরনভেদে ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড। জেল ছাড়াও বড় অংকের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। প্রিজাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভোটারের ব্যালট পেপারটি বাতিল ঘোষণা করতে পারেন।


নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যালট পেপারের ছবি তোলার মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা বা টাকা নিয়ে তাকে ভোট দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে এই ছবি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনের আওতায়ও আসতে পারে, যদি তা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।


নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মতে, ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় বুথের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটাররা কেন্দ্রে মোবাইল নিতে পারলেও বুথে প্রবেশের আগে তা সুইচ অফ রাখতে হবে অথবা নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে।


নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি উৎসাহী হয়ে নিজের ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা মূলত নিজের নাগরিক অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এটি শুধু আইনত অপরাধই নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।


সম্পর্কিত খবর