জাতীয়
৫৪ বছরের প্রথা ভেঙে ভোট দিলেন চাঁদপুরের ১০ হাজার নারী ভোটার

দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ১৯৭০ সাল থেকে একটি ধর্মীয় অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ ইউনিয়নের নারীরা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নারীরা পর্দা রক্ষা করে ভোট প্রদান করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে নারীদের জন্য ২০টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়। এসব বুথে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ সকল ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে নারী ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারেন।
এ ইউনিয়নে মোট ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন। তাঁদের বড় অংশ এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দক্ষিণ চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ৯০ বছর বয়সী মহিফুলের নেছা বলেন, “জীবনে এই প্রথম ভোট দিলাম।” আরও অনেক নারী জানান, এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত।
চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, নারীদের জন্য সব কর্মকর্তা নারী রাখায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারছেন। গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এ কে এম লোকমান হাকিম জানান, প্রথমবার ভোট দিতে আসায় অনেকের সময় কিছুটা বেশি লাগছে, তবে উৎসাহ লক্ষণীয়।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় উদ্যোগের ফলে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ নারীদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








