জাতীয়

পুরান ঢাকায় জমজমাট ইফতারের বাজার

মোহন খোন্দকার, জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

পুরান ঢাকায় জমজমাট ইফতারের বাজার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

‎সংযম ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। প্রথম দিন থেকেই পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সোমবার (২ মার্চ) ১২ রমজান মাগফিরাতের ২য় রমজানে দুপুর থেকেই চকবাজার, নাজিরাবাজার, বংশাল, লক্ষ্মীবাজার, সুত্রাপুর, নারিন্দা ও নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

‎বিকেল গড়াতেই অলিগলি ও সড়কের পাশে সারি সারি ইফতারের দোকান বসে। জিলাপি, কাবাব, হালিম, সমুচা, দইবড়া ও বিভিন্ন মাংসের পদে সাজানো স্টলগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজু প্রতি পিস ২০ টাকা, আলুর চপ ১০ টাকা, বেগুনি ২০ টাকা, ডিম চপ ৩০ টাকা এবং জালি কাবাব ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৮০০ টাকা, মাটন লেগ রোস্ট কেজি ১,৬০০ টাকা, খাসির কালা ভুনা কেজি ১,৬০০ টাকা। জিলাপি কেজি ৪০০ টাকা। বিভিন্ন মিষ্টান্ন ২৫০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গরুর পরোটা ৮০ টাকা ও মুরগির পরোটা ৬০ টাকা। এছাড়া আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লাম, শিক ও শামি কাবাব, চিকেন টিকা, খাসির চাপ, কালা ভুনা, হালিম, ফিরনি ও বিভিন্ন শরবত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

‎ফলের মধ্যে রয়েছে আনারস প্রতি পিস ১০০ টাকা, পেঁপে কেজি ১৬০ টাকা, আপেল কেজি ৩৫০ টাকা, কমলালেবু ৩৫০ টাকা ও আঙুর ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শিংটোলা থেকে ইফতার কিনতে চকবাজারে এসেছেন হাবিব মিয়া। তিনি বলেন, "পরিবারের জন্য ইফতার কিনতে আসলাম। প্রতিদিনই ধরতে গেলে আসা হয়। রোজার মাসে ইফতারির একটা স্পেশালিটি থাকে যার জন্যই চকবাজারে আসা।"

‎কলুটোলা থেকে নাজিরাবাজারে ইফতার কিনতে আসা ইসহাক রহমান বলেন, “পরিবারের জন্য ভালো কিছু ইফতার কিনতে এসেছি। পেঁয়াজু, চপ আর ছোলা সহ অন্যান্য সামগ্রী কিনলাম।”

‎কলতাবাজারের বাসিন্দা সোফিয়া খানম বলেন, “বাচ্চাদের জন্য কিছু ইফতার কিনতে এসেছি, তারা চকবাজারের স্পেশাল ইফতার আইটেম খাওয়ার বায়না করছে।"

‎অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, "বেচাকেনা তুলনামূলক ভালই হচ্ছে। পুরান ঢাকা এমনিতেই খাবারের জন্য বিখ্যাত। আর আমরাও চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব ভালো খাবারটা তাদের পরিবেশন করার।

‎রায়সাহেববাজার মোড়ে ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছেন ২২ বছর বয়সী শাঙন। পরিবারসহ কলতাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। শাওন বলেন, “পুরান ঢাকায় এসেছি পাঁচ বছর হলো। প্রতি রমজানেই দোকান দিই। এবারও দোকান দিয়েছি। তুলনামূলক ভালই বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে নতুন আইটেমের খাবার ক্রয় করার।"


সম্পর্কিত খবর