আন্তর্জাতিক

ভারতে রোজাদার মুসলিম নারীকে নির্যাতন, জোর করে প্রস্রাব পান করানোর অভিযোগ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ভারতে রোজাদার মুসলিম নারীকে নির্যাতন, জোর করে প্রস্রাব পান করানোর অভিযোগ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ভারতের বিহার রাজ্যে ৪০ বছর বয়সী মুসলিম নারী রোশন খাতুনকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর এবং জোরপূর্বক প্রস্রাব পান করানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রামপ্রধানের পরিবারের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার রাতে পাটনায় তিনি মারা যান।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জমি–সংক্রান্ত একটি বিরোধ মীমাংসার জন্য রোশন খাতুন গ্রামপ্রধান কুমারী দেবীর বাড়িতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে প্রধানের স্বামী ও ছেলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে মাটিতে ফেলে লাথি ও ঘুষি মারেন। পরে প্রধানের নির্দেশে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে আরও মারধর করা হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রমজান মাস হওয়ায় রোশন খাতুন রোজা রেখেছিলেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি চাইলে তাকে পানির বদলে প্রস্রাব মেশানো মদ পান করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মুস্তাকিম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানের নির্দেশে তাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তার বাঁধন খোলা হয়। তৃষ্ণায় পানি চাইলে কেউ একজন বলে, তাকে মদের সঙ্গে মেশানো প্রস্রাব খেতে দেওয়া হোক।”


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রধান একটি বড় বাঁশ দিয়ে আঘাত করলে রোশন খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার ওড়না দিয়ে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। পানি আনতে যাওয়ার পর ফিরে এসে তিনি দেখেন খাতুনকে প্রস্রাব পান করানো হয়েছে।


স্থানীয়রা আরও জানান, খাতুনকে রক্ষা করতে গেলে কয়েকজনের ওপরও হামলা চালানো হয়। মারধরের ফলে তার কান ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।


খাতুনের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন, কোরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে।


এদিকে পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, থানায় নেওয়ার পর তার কোনো মেডিকেল পরীক্ষা না করেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং একটি পার্সোনাল রিকগনাইজেন্স (পিআর) বন্ডে স্বাক্ষর করানো হয়।


ঘটনার পর গত রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ ফুলপারস এলাকা থেকে গ্রামপ্রধানের ছেলে মাঙ্গনু সিংকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় ডিএসপি অমিত কুমার জানিয়েছেন, তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


সম্পর্কিত খবর