ক্যাম্পাস
ঈদগাহ নির্মাণের জন্য বেরোবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে ১৮০টি গাছ কাটার অভিযোগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ঈদগাহ নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে প্রায় ১৮০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় ঈদের ছুটি শুরুর পরপরই এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের আড়ালে রেখে গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে গাছ কাটা শুরু হলে আবাসিক হলগুলোতে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানান। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রশাসনিক ব্যাপারে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নয়ন ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বড় বড় মাঠ রয়েছে। মসজিদে জায়গার সংকট থাকলে ঈদের নামাজ সেই মাঠগুলোতেই আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা না করে ছুটির সুযোগে গাছ কেটে ঈদগাহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বৃক্ষের জাদুঘর বলা হয়। এমন একটি ক্যাম্পাসে কীভাবে প্রশাসন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রহমত আলী বলেন, গাছ কাটা সহজ, কিন্তু গাছ লাগানো ও বড় করা অনেক কঠিন। ক্যাম্পাসে যে মাঝারি আকারের গাছগুলো আছে সেগুলোরও ঠিকমতো পরিচর্যা হয় না। এমন পরিস্থিতিতে এত গাছ কাটা খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন গ্রীন ভয়েসের সভাপতি সাদমান হাফিজ বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জ্ঞানচর্চা, সচেতনতা ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার প্রতীক। সেখানে পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাছপালা নির্বিচারে কেটে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত। ক্যাম্পাসের গাছপালা শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।








