ক্যাম্পাস
বেরোবিতে গাছ কাটার ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যাখ্যা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি।
বুধবার (১১ মার্চ) কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাত সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে স্থায়ী ঈদগাহ ময়দান না থাকায় প্রতি বছর ঈদের জামায়াত আয়োজন করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে মসজিদের সামনে থাকা গাছগুলোর কারণে সমান্তরালভাবে নামাজের সারি করা সম্ভব হচ্ছিল না।
গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মতামত দেন যে, মসজিদের সামনে থাকা ১৫–১৬টি গাছ অপসারণ করা হলে সমান্তরালভাবে নামাজের সারি করা সহজ হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে ঈদের জামায়াতের জন্য উপযোগী স্থান তৈরির লক্ষ্যে মসজিদ পরিচালনা কমিটি উদ্যোগ নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করে গাছগুলো বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তবে টেন্ডারে গাছ ক্রয়কারী ব্যক্তি কমিটিকে অবহিত না করে ছুটির দিনে মসজিদের সামনের ১৫–১৬টি গাছ কেটে ফেলেন।
এ বিষয়ে কমিটিকে না জানিয়ে গাছ কাটার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানায়, গাছ অপসারণের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। বরং যতগুলো গাছ অপসারণ করা হবে, তার অন্তত দ্বিগুণ নতুন গাছ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোপণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর স্বার্থ, শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়। এ ধরনের বিষয়ে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আবেগ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।








