সারাদেশ

ঈদের ছুটির রেশ কাটেনি, ফাঁকা সড়কে যাত্রী খুঁজছে বাস

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

ঈদের ছুটির রেশ কাটেনি, ফাঁকা সড়কে যাত্রী খুঁজছে বাস- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হলেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। ঈদের পঞ্চম দিনেও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে ছুটির রেশ—ফাঁকা রাস্তা, কম যানবাহন আর সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে যাত্রী সংকটে পড়া গণপরিবহন। বাস চলছে ঠিকই, তবে সেগুলোর বড় অংশই অর্ধেক বা তারও কম যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটছে। কোথাও কোথাও যাত্রী পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে পরিবহনগুলোকে।


বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, কালশী, ইসিবি চত্বর হয়ে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


মিরপুর থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত এলাকায় দেখা যায়, ঢাকার চিরচেনা যানজটের চিত্র পুরোপুরি অনুপস্থিত। বরং সড়কের বেশির ভাগ অংশেই গাড়ি চলছে নির্বিঘ্নে, কোথাও থেমে থাকতে হচ্ছে না দীর্ঘ সময়। যানবাহনের চাপ কম থাকায় অল্প সময়েই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাতায়াত করা যাচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। বরং বাসগুলোই যাত্রী খুঁজছে। কিছু বাসে ১০-১৫ জন যাত্রী নিয়েই পুরো রুট ঘুরতে দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় নিয়ে ট্রিপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে, কারণ যাত্রী না পেলে মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।


তবে এই স্বস্তির বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে গণপরিবহন খাতে। ‘অছিম’ ও ‘রাজধানী’ পরিবহনের বাসগুলো গাবতলী, মিরপুর ১০ ও মিরপুর ১১ ইসিবি চত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী না পেয়ে অপেক্ষা করছে। অনেক বাসে অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে ট্রিপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিনের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন চালক, কন্ডাক্টর ও শ্রমিকরা।


গাবতলী থেকে ইসিবি হয়ে স্টাফ কোয়ার্টার রুটে চলাচলকারী ‘অছিম’ পরিবহনের কন্ডাক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছি। প্রথম ট্রিপে ভাড়া উঠেছে ৮০০ টাকা, দ্বিতীয় ট্রিপে প্রায় ১১০০ টাকা। সাধারণ দিনে এই রুটে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না, কিন্তু এখন গাড়ি প্রায় ফাঁকা নিয়েই চলতে হচ্ছে। যাত্রীর জন্য অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।


রফিকুল বলেন, গাড়িতে সিট খালি পড়ে থাকে। যাত্রী নেই বললেই চলে। সকাল থেকে তিনটা ট্রিপ দিয়েছি, কিন্তু কোনো ট্রিপেই ঠিকমতো ভাড়া ওঠেনি। এই অবস্থায় গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর।


একই রুটে ‘রাজধানী’ পরিবহনের চালক সাইফুল মিয়া বলেন, ছুটি শেষ হলেও এখনো মানুষ ঢাকায় ফিরেনি। যাত্রী না থাকায় গাড়ির খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে গেছে। তেল-গ্যাসের দাম, গাড়ির মেইনটেন্যান্স—সব মিলিয়ে খরচ অনেক, কিন্তু আয় নেই বললেই চলে।


যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর-১২ রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহবের বাসচালক শহীদুল হক বলেন, আগের বছরগুলোতে ঈদের কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকায় ভিড় শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবার পঞ্চম দিনেও সেই চাপ নেই। রাস্তায় গাড়ি কম, যাত্রীও কম। এতে করে আমাদের আয় অনেক কমে গেছে।


অন্যদিকে, যাত্রীদের জন্য এই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। যানজট না থাকায় অল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন তারা। আমিনবাজার থেকে আগারগাঁওয়ে আসা যাত্রী মাহবুব রহমান বলেন, আজকে রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই। খুব দ্রুত চলে আসতে পেরেছি। সাধারণ দিনে যেখানে এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে আজ ২০-২৫ মিনিটেই পৌঁছে গেছি।


পল্লবী থেকে ধানমন্ডি যাওয়া যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঢাকার রাস্তায় এমন ফাঁকা পরিবেশ খুব কমই দেখা যায়। কোনো চাপ নেই, খুব স্বস্তিতে যাতায়াত করা যাচ্ছে। তবে এটা যে বেশিদিন থাকবে না, সেটাও বুঝতে পারছি।


যাত্রী সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি চালকদের ওপরও। মিরপুর-১০ এলাকায় সিএনজি চালক আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০-৬০০ টাকার মতো ভাড়া পেয়েছি। প্রতিদিন ১৪০০ টাকা জমা দিতে হয়। এখনো সেই টাকাও উঠাতে পারিনি। যাত্রী না থাকলে আয় কীভাবে হবে?


বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের দীর্ঘ ছুটি ও মানুষের বাড়তি সময় নিয়ে গ্রামে অবস্থানের কারণে রাজধানীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগছে। অনেক অফিস-আদালত এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে—ফলে মানুষের চলাচল কম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতে।


সম্পর্কিত খবর