সারাদেশ

যশোরে তেলের পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

যশোরে তেলের পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যশোরে তেলের সংকট এখনও স্থিতিশীল হয়নি, যদিও জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। পাম্পে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকদের জন্য তেল দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকে। সীমিত পরিসরে তেল দেওয়ার পাম্পগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন।


যশোরের চুড়মনকাটি থেকে চৌগাছা উপজেলার মুক্তদাহ পর্যন্ত চারটি পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ। একমাত্র চৌগাছার একটি পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া হচ্ছে। পাম্পের কর্মচারী রায়হান জানান, “চৌগাছার অন্য পাম্পগুলোতে তেল নেই। ফলে গাড়ি থেকে তেল নামানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।”


লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ঘণ্টার উপরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল না নিয়ে ফেরার উপায় নেই। আজও যদি ভিড়ের কারণে তেল না পাই, বাইক ঠেলে বাসায় নিতে হবে।”


অন্যদিকে বেনাপোল, মিলন, তনিমা ও হক ফিলিং স্টেশনের অনেক পাম্প অর্ধেক সময় বন্ধ রয়েছে। তেল সরবরাহ ঘাটতির কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়াই দায় হয়ে পড়ছে। মোটরসাইকেল চালক রিপন হোসেন বলেন, “দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে বাড়ি ফিরব কীভাবে তা বুঝতে পারছি না।” আর এক চালক সিয়াম আহমেদ জানান, “এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে তেলের জন্য ঘুরছি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল ঠেলে বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।”


যশোর শহরের মণিহার এলাকার যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিসের সহকারী সুপারভাইজার পলাশ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক কয়েকদিন পাম্পে প্রচণ্ড ভিড়। মোটরসাইকেল চালকেরা বেশি, তাই অনেকে একবারে বেশি তেল কিনছেন।”


মোটরসাইকেল চালক আমজেদ হোসেন বলেন, “গাড়িতে তেল নেওয়া এখন মানুষের জন্য জীবনযুদ্ধের অংশ হয়ে গেছে। এখন তেল নেওয়ার জন্য তিন-চার ঘণ্টা সময় নিয়ে বাড়ি বের হতে হচ্ছে। আমরা বুঝি, যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট, কিন্তু সরকারের দিক থেকেও বাস্তব অবস্থা জনগণকে জানানো দরকার। সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু আমরা পাই না। যদি সত্যিই সংকট থাকে, জনগণকে জানান, তারা গাড়ি না চালিয়ে পায়ে হেঁটে চলবে।”


ঢাকা রোড তালতলা এলাকার মেসার্স মনিরউদ্দিন আহমেদের ম্যানেজার এএসএম খালিদ বলেন, “তেল না থাকলে পাম্পে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকে। ডিপো থেকে তেল আসার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের সামনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠে।”


সম্পর্কিত খবর