ক্যাম্পাস
ঈদের ছুটি শেষে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছুটির সময়টাতে ক্যাম্পাস ছিল অনেকটাই নির্জন ও শান্ত। শিক্ষার্থীদের কোলাহলহীন পরিবেশে ক্লাসরুম, আবাসিক হল ও সবুজ প্রাঙ্গণ যেন হারিয়ে ফেলেছিল তার চিরচেনা রূপ।
ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রম। বন্ধ থাকা শ্রেণিকক্ষগুলো খুলেছে, হলের তালাবদ্ধ কক্ষগুলোও আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। রূপালি রঙের পরিচিত বাসগুলো চলাচল শুরু করেছে, আর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস ফিরছে চেনা ছন্দে।
রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্লাস শুরু হওয়ায় গত রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা হলে ফিরতে শুরু করেছেন। সকাল পর্যন্ত সেই প্রবাহ অব্যাহত ছিল। শহীদ হাদী চত্বর ও নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে অনুভূতির কথা জানাতে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “এক বুক মায়া আর বাড়ির কোলাহল পেছনে ফেলে যখন আবার চিরচেনা এই ইটের দেয়ালে ঘেরা আঙিনায় পা রাখলাম, দেখি সময় যেন এখানে থমকে দাঁড়িয়ে আছে।
দীর্ঘ ছুটির নিস্তব্ধতা ভেঙে আবার যখন প্রিয় ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে ভেতরে পা রাখলাম, মনে হলো এক পশলা বৃষ্টি যেন তৃষ্ণার্ত মরুভূমির বুকে প্রাণ ফিরিয়ে দিল। এতদিন যে করিডোরগুলো নিঃসঙ্গতায় ডুবে ছিল, যে চত্বরগুলো কেবল শুকনো পাতার মড়মড় শব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলত, আজ সেখানে আবার সহস্র স্বপ্নের কোলাহল।
বাড়ির টান আর ক্যাম্পাসের মায়া—এই দুইয়ের মাঝে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন কাজ করে। বাড়িতে থাকার সময় মনে হয় এখানেই চিরকাল থেকে যাই, কিন্তু প্রিয় ক্যাম্পাসে ফেরার পর বুঝলাম, এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গা আমাদের অস্তিত্বের কতটা গভীরে মিশে আছে।
বন্ধু-বান্ধবদের সেই পরিচিত চিৎকার, চায়ের দোকানে কাপের টুংটাং শব্দ আর লাইব্রেরির গভীর মৌনতা—সবকিছুই যেন আজ নতুন এক সুরে কথা বলছে। শূন্যতা বিদায় নিয়েছে, ক্যাম্পাসের প্রতিটি ঘাসফুলের ডগায় এখন চাঞ্চল্য।”
অন্যদিকে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ ফারজানা ইয়াসমিন বর্ষা বলেন, “ঈদের পরে পরিবার ছেড়ে আবার ক্যাম্পাসে আসা একটু কষ্টের হলেও এখানের সবাই যেন একটি পরিবার। অনেকদিন পর সবার সঙ্গে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে। আবার পড়াশোনা, পরীক্ষা ও ল্যাব নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, মাহে রমজান, জুমু’আতুল বিদা, শব-ই কদর, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩৮ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ছুটি কার্যকর ছিল।







