সারাদেশ

বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাওয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাওয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাও এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব রংপুর। সিন্ডিকেট বন্ধে মানববন্ধন থেকে ক্যাবের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।


বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৩০ থেকে ৩৪ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও খোলা তেলের নামে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন এবং তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেলও নির্ধারিত ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।


সিন্ডিকেট বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।


বক্তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব ড্রামে পূর্বে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে ভোক্তারা একদিকে যেমন বেশি দাম দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন।


এসময় সিন্ডিকেট বন্ধে ক্যাব ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—

১. সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

২. সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি ও অভিযান করতে হবে।

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

৬. ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।


মানববন্ধনে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব রংপুর জেলার সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন— মহানগর ক্যাবের সভাপতি দিলীপ চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন মিঠু, জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক এ এইচ এম আমিরুল ইসলাম রাজু, মহানগরের সহ-সভাপতি হাসান ফেরদৌস রাসেল, সহসাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হাসান, কোষাধ্যক্ষ আলম আহমেদ, কার্যকরী সদস্য সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর মানিক। এসময় রংপুর জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন উপজেলা ক্যাবের সদস্যগণ মানববন্ধনে অংশ নেন।


সম্পর্কিত খবর