আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী অবশ্যই খুলতে হবে, যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত জি৭ : ফরাসি অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক

শেয়ারঃ

হরমুজ প্রণালী অবশ্যই খুলতে হবে, যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত জি৭ : ফরাসি অর্থমন্ত্রী- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেস্কিউর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা প্রয়োজন, ‘কিন্তু যেকোনো মূল্যে নয়’।


তিনি আরও যোগ করেন যে জি৭ নেতারা যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।


ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, উন্নত অর্থনীতির সাতটি দেশের (জি৭) অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ‘সীমিত করা জরুরি’।


ওয়াশিংটনে বুধবার অনুষ্ঠিত জি৭-এর বৈঠকের পর বিবৃতিতে বলা হয়, জি৭ সদস্যরা একটি স্থায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।


২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরাইলের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।


তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌ-পথটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।


এই সংঘাতের পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য সমর্থন এবং খনিজ সম্পদের সহযোগিতা ছিল এ বছর জি৭-এর অর্থ নেতাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।


বৃহস্পতিবার লেস্কিউর বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহে ঝুঁকির ভারসাম্য কোন দিকে ঝুঁকছে, তা আমাদের বুঝতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এক মাস পর আমরা প্যারিসে আবার বৈঠকে বসছি এবং আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে চাই।’


‘যদি আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, যেমনটা আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে মজুত তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে করেছিলাম, আমরা তা নেব।’ ‘টাকা দেব না’।


এই সপ্তাহে মার্কিন রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে লেস্কিউর এই কথা বলেন।


এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকার এবং অন্যান্য নেতারা একত্রিত হয়েছেন।


গত মাসে, জি৭ দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বাজারের অস্থিরতা কমাতে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছেড়েছে।


লেস্কিউর বলেন, যুদ্ধের বিষয়ে জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ অনুভূতি ছিল গাম্ভীর্যপূর্ণ।

কিন্তু হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটি খোলা দরকার, কিন্তু যেকোনো মূল্যে নয়।’


তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল নিয়ে আলোচনা করছেন।


লেস্কিউর আরও বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার জন্য এক ডলারও দিতে চাই না। আমরা এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো অর্থ দেব না।’


‘আলোচনা চলছে বলে যে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, এবং আমি আশা করি এর একটি ফল পাওয়া যাবে,’ তিনি বলেন।


জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী শীতের আগে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে জি৭। 


২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়ার ইউক্রেন হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতে পরিণত হয়েছে।


লেস্কিউর বলেন, ইরানে যা ঘটছে তা থেকে রাশিয়ার কোনো সুবিধা পাওয়া উচিত নয়, এবং ইউক্রেন যেন এই যুদ্ধের ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ না হয়।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্চ মাসে সাময়িকভাবে সাগরে থাকা রুশ তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল।


তবে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বুধবার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই অনুমতির মেয়াদ আর বাড়াবে না এবং এটি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।


ব্যাংক অব ফ্রান্সের গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলেরয় ডি গালহাউ বৃহস্পতিবার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় ‘দ্বিধাহীনভাবে’ পদক্ষেপ নেবে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কর্মকর্তারা কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।


জি৭-এর পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বকারী দেশ ফ্রান্স ছাড়াও এই জোটে রয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।


সম্পর্কিত খবর