আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে দূত নিয়োগ নিয়ে ফের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ও তার নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা বা উপেক্ষা করাকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার।
২০২৪ সালে এই নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি স্টারমারকে তাড়া করে ফিরছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভ বাড়ে। লন্ডন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
স্টারমারের লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই নেতা নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে একাধিক মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। তবে তার পুরো রাজনৈতিক জীবন জুড়েই রয়েছে নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ।
সর্বশেষ ঘটনায় সরকার দায় দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর। তাদের দাবি, ম্যান্ডেলসনের নিরাপত্তা যাচাইয়ে (সিকিউরিটি ভেটিং) ব্যর্থতার বিষয়টি এই সপ্তাহ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিনস এ ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন। জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স বলেন, স্টারমার তার ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন।
সরকার জানায়, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা যাচাই সংস্থার সুপারিশ উপেক্ষা করেই ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জোরালো করে। কারণ, গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে সরকার জানায়, নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের পদটি ব্রিটেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।
‘ক্ষুব্ধ’ চলতি বছরের শুরুতে এই কেলেঙ্কারির জেরে স্টারমারের দুই শীর্ষ উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। এতে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে।
ম্যান্ডেলসনকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টারমারের বিচক্ষণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেন স্টারমার।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এক্সে লিখেছেন, ‘স্টারমার আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার পদত্যাগ করা উচিত।’
স্টারমার অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে ম্যান্ডেলসন মিথ্যা বলেছেন।
মন্ত্রী জোন্স বলেন, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও অস্বীকার করেন। পুরো ঘটনাকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ঝুঁকিতে নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘জনগণ দেখতে পাচ্ছে, কেয়ার স্টারমার একজন শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য নেতা, যার আন্তর্জাতিক প্রভাব রয়েছে।’
পুলিশি তদন্তমার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির প্রকাশিত নথিতে ম্যান্ডেলসনের এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন তথ্য সামনে আসার পর তাকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেন স্টারমার।
পরে দায়িত্বে থাকাকালে অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেফতার করে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ গঠন হয়নি। তিনি অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় সরকারি মন্ত্রী থাকাকালে সংবেদনশীল নথি এপস্টিনের কাছে ফাঁস করার অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্টারমারের কাছে দেওয়া যাচাই প্রতিবেদনে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনের উল্লেখ ছিল।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কাজে প্রলুব্ধ করার অপরাধে দণ্ডিত হন এপস্টাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক বজায় ছিল। তখন ম্যান্ডেলসন মন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১০ সালে লেবার সরকারের পতনের পরও সেই সম্পর্ক চলতে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের জুনে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টিনের বাসায় অবস্থান করেছিলেন ম্যান্ডেলসন।
চলতি বছরের শুরুতে আইনপ্রণেতারা ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ যাচাই সংক্রান্ত হাজার হাজার ইমেইল, বার্তা ও নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
এর দ্বিতীয় দফা নথি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।







