আন্তর্জাতিক
হরমুজের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য

হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার তারা এ ঘোষণা দিয়েছে।
তবে তারা স্পষ্ট করেছে, এই বাহিনী হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরেই কেবল এটি মোতায়েন করা হবে।
প্যারিস থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্যারিসে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আলোচনায় তারা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইউরোপ ও এশিয়ার মোট ৪৯টি দেশ অংশ নেয়। এতে কয়েক ডজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধরত পক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এ বৈঠকে অংশ নেয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর দেশটি এই অবরোধ আরোপ করে।
এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্যারিস আলোচনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
স্টারমার বলেন, বহুজাতিক এই মিশন ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসামাত্রই’ মোতায়েন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক মিশন হবে। এর লক্ষ্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা তৈরি করা এবং মাইন অপসারণে সহায়তা করা।
তিনি আরও জানান, এক ডজনেরও বেশি দেশ ইতোমধ্যে সম্পদ দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
মাখোঁ বলেন, নেতারা তেহরানের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সব পক্ষের জন্য পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে প্রণালী পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ঘোষণা বহুজাতিক মিশনটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এটি স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করবে।
তিনি এই মিশনকে ‘নিরপেক্ষ’ এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলো থেকে সম্পূর্ণ পৃথক বলেও বর্ণনা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, তার দেশ এই বাহিনীতে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রথমে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, এই মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘কাম্য’ হবে।
যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে ইউরোপের জন্য নিজের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
তেহরানের ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় ন্যাটোর সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই জোটকে দূরে থাকতে বলেছেন।
তবে, তিনি প্যারিস আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওই আলোচনায় ন্যাটোর কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।
স্টারমার বলেন, ‘বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা থাকা জরুরি। এতে জনগণের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।’
তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় খোলার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তবে সতর্ক করে বলেন, ‘এটি অবশ্যই স্থায়ী ও কার্যকর হতে হবে।’
স্টারমারের কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে লন্ডনের বাইরে নর্থউডে যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরে সামরিক প্রধানগণ আরও বৈঠকে বসবেন। সেখানে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।







