আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনায় তেলের দাম ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায়, সোমবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম বেঞ্চমার্কে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এপ্রিলের শুরু থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ইরান অভিযোগ করেছে, ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হামলা চালিয়েছে এবং এতে দেশটি পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে তেহরান দাবি করেছে।
বাজার বিশ্লেষক ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক পোস্টগুলো সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার খবর এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণার পর বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ যুক্তরাষ্ট্রকে ৮ এপ্রিল থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।







