আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে আরও সক্রিয় হওয়ার অঙ্গীকার ইউরোপীয় নেতাদের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রশমনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। এ লক্ষ্যে তারা সাইপ্রাসে মিসর, লেবানন ও সিরিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইরানকে নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টায় ইউরোপের সমর্থনের অভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনা করলেও, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তুলনামূলকভাবে নেপথ্য ভূমিকায় রয়েছে।
নিকোসিয়া থেকে এএফপি জানায়, সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘ইউরোপকে আরও অনেক কিছু করতে হবে।’
পরে তারা লেবানন, মিসর, সিরিয়া ও জর্ডানের নেতাদের পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিবের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেবেন।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সিরিয়া, জর্ডানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের এটি একটি সুযোগ। কারণ তারা এ অঞ্চলের পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবের মুখে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্থিতিশীলতা যত দ্রুত ফিরে আসে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি আশ্বস্ত হয়, তা সবার স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।’ এ বক্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীত। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘বিশ্বের সব সময়’ রয়েছে।
মার্চে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর দেশটি আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত রাতের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, অঞ্চলটির দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র আইয়া নাপায় নৈশভোজ বৈঠকে মিলিত হন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়ানো হয়।
ইউরোপের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে হরমুজ প্রণালী। কার্যত এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে এবং ইউরোপে জেট জ্বালানির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা টেকসই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কীভাবে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করেছেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু সদস্য দেশ অংশ নেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাইপ্রাস বৈঠকের আগে বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবদান রাখতে প্রস্তুত।’
বর্তমানে বিভক্ত দ্বীপ সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্ব পালন করছে। দেশটি সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো কীভাবে পারস্পরিক সহায়তা দিতে পারে, সে বিষয়েও ইইউকে ভাবতে উৎসাহিত করছে।







