আন্তর্জাতিক
ন্যাটোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ইতালির প্রধানমন্ত্রীর

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে, এমন খবরের মধ্যে ন্যাটো মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
নিকোসিয়া থেকে এএফপি জানায়, সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ন্যাটোকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি মনে করি, এটিই আমাদের শক্তির উৎস।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় কিছু মিত্র দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে পেন্টাগন আলোচনা করেছে। এর মধ্যে স্পেনকে জোট থেকে স্থগিত করার বিষয়টিও রয়েছে।
তবে ন্যাটো চুক্তিতে সদস্যদেশকে সাময়িক বরখাস্ত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন, ন্যাটো মিত্ররা ইরান যুদ্ধে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না, যা তিনি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।
ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-সম্পর্কিত সামরিক উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার কিংবা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
যুক্তরাজ্য শুরুতে একই অবস্থান নিলেও পরে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য নিজেদের ঘাঁটি থেকে মার্কিন উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়।
এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন ডেনাল্ড ট্রাম্প। তবে সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ইরান সামরিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে রেখেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, যার দেশকে স্থগিতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে, শুক্রবার বলেন, তিনি ‘উদ্বিগ্ন নন’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি ‘বিশ্বস্ত সদস্য’।
এদিকে, ওয়াশিংটন ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হওয়ার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের পারস্পরিক সহায়তা নীতির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে একটি ‘রূপরেখা’ প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেলোনি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তায় ন্যাটো কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটোর ইউরোপীয় স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে আমাদের কাজ করতে হবে, যা অবশ্যই আমেরিকান স্তম্ভের পরিপূরক হবে।’







