আন্তর্জাতিক
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে ইরাকে অচলাবস্থা অব্যাহত

ইরাকের প্রধান শিয়া জোট শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা নূরি আল-মালিকির সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে যাওয়ায়, এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বাগদাদ থেকে এএফপি একথা জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার সম্পর্ক থাকা শিয়া গোষ্ঠীগুলোর ক্ষমতাসীন জোট 'কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক' প্রাথমিকভাবে মালিকিকে মনোনীত করেছিল।
জোটের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টির সুরাহা করতে এই সপ্তাহে তিনবার বৈঠকে বসলেও কোনো সমাধানে আসতে পানেনি।
শুক্রবার রাতের বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, জোটের নেতারা প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শনিবার আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এবং ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নূরি আল-মালিকি যদি পুনরায় এই পদে ফিরে আসেন, তবে ইরাককে দেওয়া মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরাকে বৃহত্তম শিয়া গোষ্ঠীর মনোনয়নের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থী কার্যত ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু ট্রাম্পের হুমকি এই পরিস্থিতিকে পাল্টে দিয়েছে।
কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকির ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার না করলেও, জোটের নেতারা অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা করছেন।
আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি, গোয়েন্দা প্রধান হামিদ আল-শাতরি ও সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টির সদস্যদের সরকারি পদে নিষিদ্ধ করার কমিটির প্রধান বাসেম আল-বাদরি।
ইরাক দীর্ঘদিন ধরে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মিত্র দেশ— প্রতিবেশী ইরান ও তাদের কট্টর শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করে আসছে।







