আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ার মহাসড়কে বোমা হামলায় নিহত ১৪, আহত ৩৮

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

কলম্বিয়ার মহাসড়কে বোমা হামলায় নিহত ১৪, আহত ৩৮- খবরের থাম্বনেইল ফটো

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার মহাসড়কে বোমা হামলায় ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। আগামী মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে দেশটিতে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা।


খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিলুপ্ত ফার্ক গেরিলা বাহিনীর ভিন্নমতাবলম্বীরা এ হামলার জন্য দায়ী। তারা দেশজুড়ে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতপ্রবণ ও কোকা উৎপাদনকারী কাওকা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে কোকা চাষের জন্য পরিচিত।


প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই হামলার সঙ্গে জড়িতরা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট ও মাদক পাচারকারী।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মোকাবিলায় আমাদের সেরা সেনাদের নামাতে হবে।’


বামপন্থী এই নেতা বোমা হামলার জন্য দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির কুখ্যাত অপরাধী ইভান মরডিস্কোকে দায়ী করেছেন। তাকে তিনি প্রয়াত কোকেন সম্রাট পাবলো এসকোবারের সঙ্গে তুলনা করেন।


কাওকার গভর্নর অক্টাভিও গুজমান জানান, ‘এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং ৩৮ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।’


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ কয়েকজনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন।


প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে সংঘটিত বিস্ফোরণে বাস ও ভ্যান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি গাড়ি উল্টে গেছে এবং সড়কে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছিন্নভিন্ন যানবাহনের পাশে নিহতদের মরদেহ চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।


সামরিক প্রধান হুগো লোপেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি বেসামরিক মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলা।’


তিনি জানান, হামলাকারীরা একটি বাস ও আরেকটি যানবাহন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কফি চাষি ফ্রান্সিসকো হাভিয়ের বেতানকুর্ত বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়েছি। মনে হচ্ছে আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যা শেষ হয়ে গেছে।’ 


তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা আর কোথায় ঘটে?’


এই হামলার একদিন আগে শুক্রবার কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি-তে একটি সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলায় দুইজন আহত হন। এরপর ভালে দেল কউকা ও কউকা অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে।


সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে এ দুই অঞ্চলে মোট ২৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, এলাকাগুলোতে সেনা ও পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।


কলম্বিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মাদক পাচার, অবৈধ খনন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেও তারা সহিংসতার আশ্রয় নেয়।


২০১৬ সালের শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করা ফার্কের কিছু অংশ বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।


আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত বছরের জুনে রাজধানী বোগোটায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তরুণ রক্ষণশীল প্রার্থী মিগেল উরিবে তুরবায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন করে আলোচনায় আসে।


বর্তমানে জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদা। তার পেছনে রয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ও পালোমা ভ্যালেন্সিয়া।

তিনজনই হত্যার হুমকি পেয়েছেন এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


সম্পর্কিত খবর