ক্যাম্পাস
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা

পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির পর এবার সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীরাও।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে একই দাবিতে গত বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত রোববার থেকে শুধু পরীক্ষা গ্রহণে সম্মতি দেন শিক্ষকরা। তবে পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ এখনও স্থবির রয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করলেও কয়েক বছর ধরে তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ অবস্থার প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ধীমান কুমার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
ধীমান কুমার অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যেই অনেক শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য শুচিতা শরমিন এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে উপাচার্য হিসেবে মোহাম্মদ তৌফিক আলম যোগদানের পর আরও অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও বিভিন্ন অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য আবেদনের ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথমবার সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা শুরু হয়।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদনের জন্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান না করে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সাল থেকে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী অনেক শিক্ষকের জন্য এখনো আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভাও আয়োজন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গত ৩ জানুয়ারি পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আইন নয়, বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত মতামত প্রাধান্য পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।







