আন্তর্জাতিক

অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড়ীয় দলগুলোর আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর সভাপতি ও জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ বিজয়।


রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।


৫১ বছর বয়সী বিজয় রাজ্যের প্রথম অ-দ্রাবিড়ীয় রাজনৈতিক ধারার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা, চলচ্চিত্র পরিচালক এস.এ. চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা চন্দ্রশেখর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


বিজয়ের সঙ্গে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং তরুণ মুখদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।


মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন—

এন. আনন্দ (বুসি আনন্দ), টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদক

কে. এ. সেনগোট্টাইয়ান, প্রবীণ রাজনীতিক

আধব অর্জুন, নির্বাচনী কৌশলী

কে. জি. অরুণরাজ, সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা

এস. কীর্তনা, মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য

রাজমোহন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

সি. টি. আর. নির্মল কুমার, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

টি. কে. প্রভু, চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক

পি. ভেঙ্কটরামানন, নির্বাচিত বিধায়ক

জোটের সমর্থনে সরকার গঠন


৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়।


ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী), বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থনে বিজয়ের জোটের শক্তি ১২০ আসনে পৌঁছায়। যদিও বিজয় পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—উভয় আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন, তাই একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার পর জোটের চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৯।


রাজ্যপাল তাঁকে আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছেন।


নির্বাচনী প্রচারে বিজয়ের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নিজ আসন কোলাথুরে পরাজয়।


রূপালি পর্দার ‘থালাপতি’ থেকে বাস্তব রাজনীতির নেতৃত্বে আসা বিজয় স্বল্প সময়েই তরুণ ভোটার, নারী এবং শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্তদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।


সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয়ের সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে—

১. সরকার গঠনে একাধিক দলের সমর্থন প্রয়োজন হয়েছে। জোটসঙ্গীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা হবে তাঁর প্রথম রাজনৈতিক পরীক্ষা।

২. বিজয় জনপ্রিয় নেতা হলেও সরাসরি প্রশাসনিক দায়িত্বে এটি তাঁর প্রথম অভিজ্ঞতা।

৩. দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের চাপ থাকবে।

৪. দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব হিসেবে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে।

৫. আস্থা ভোটে জয়

১৩ মে-র আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের মাধ্যমে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।


শপথ গ্রহণের পর সমর্থকদের উদ্দেশে বিজয় বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই আমার শক্তি। আমরা এমন একটি নতুন তামিলনাড়ু গড়ে তুলব, যেখানে সর্বাগ্রে থাকবে মানুষ ও তাদের অধিকার।”


সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজ্যের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হয়ে বিজয় এখন নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন। তবে জনপ্রিয়তার এই পুঁজি কার্যকর প্রশাসনিক সাফল্যে রূপ দিতে পারলেই তাঁর নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।


সম্পর্কিত খবর