আন্তর্জাতিক
২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ও নারী নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনীর ঘোষণা

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন জোসেফ বিজয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি নীতিগত নির্দেশে স্বাক্ষর করেন, যা রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জনসমাবেশে আবেগঘন ভাষণে বিজয় তার রাজনৈতিক যাত্রা, সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার পরিচিত সংলাপ ‘এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (যারা আমার হৃদয়ে বাস করেন) উচ্চারণ করেন, যা সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
প্রথম দিনের তিনটি প্রধান সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবসে বিজয় যে তিনটি নির্দেশে স্বাক্ষর করেন, সেগুলো হলো—
১. বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা: রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. মাদকবিরোধী অভিযান: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও পাচার রোধে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. নারী নিরাপত্তা জোরদার: নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এবং সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিজয় বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানিসহ মৌলিক খাতে তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে কৃষক ও জেলেদের কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে বিজয় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি; আমি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। জীবনে বহু অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করেই আজ এখানে পৌঁছেছি। আপনারা আমাকে আপনাদের সন্তান ও ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছেন, হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন।”
বিজয় আরও বলেন, “আমি কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেব না। ডিএমকে সরকার রাজ্যের কোষাগার প্রায় শূন্য করে দিয়ে গেছে। বর্তমানে রাজ্যটি ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তবে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—জনগণের অর্থের এক পয়সাও অপচয় হতে দেব না এবং রাজ্যের সম্পদ কেউ লুট করতে পারবে না।”
তিনি তাঁর ভাষণে ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের’ ভিত্তিতে একটি নতুন যুগ গড়ার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রবীণ বামপন্থী নেতা এম এ বেবি এবং জোটের অন্যান্য শরিকরা। ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই রাহুল গান্ধী বিজয়ের পাশে ছিলেন এবং মঞ্চেও তাঁকে অভিনন্দন জানান।
দীর্ঘ ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে একটি অ-দ্রাবিড় সরকার গঠিত হলো। যদিও বিজয়ের দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, তবে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী), ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনে তাদের আসনসংখ্যা ১২০-এ পৌঁছেছে।
ডিএমকে মুখপাত্র এ. সারাভানান দাবি করেছেন, রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট এড়াতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজেই শরিকদের বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে বিজয়ের জন্য পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে ১৩ মে’র মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা। মন্ত্রিসভার ৯ জন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখন একটি নতুন তামিলনাড়ু গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।







