সারাদেশ
যশোরে কোনো কেন্দ্রেই ইপিআই টিকা নেই, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৭৩ হাজারের বেশি শিশু

যশোরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আওতাভুক্ত জীবনরক্ষাকারী টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে জেলায় ৭৩ হাজারের বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। টিকা না পেয়ে অভিভাবকদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোরে দুই হাজার ২৮৩টি অস্থায়ী ও আটটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রের কোনোোটিতেই ইপিআই টিকা নেই।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে হাম, পোলিও, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা, এমনকি পঙ্গুত্বের মতো পরিণতিও হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে যশোর জেনারেল হাসপাতাল, সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক হাজার ৭২২ শিশু জন্ম নিয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ৫৯ হাজার ৮৭৩ শিশু। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বাসাবাড়িতে জন্ম নেওয়া অনেক নবজাতকের তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। এসব শিশুর বড় একটি অংশ এখনো প্রয়োজনীয় টিকা পায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মীরা সরবরাহ না থাকার কথা জানিয়ে শিশুদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি খাতে এসব টিকা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যশোর সদর উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী (এমটিপি) ওহেদুজ্জামান সুমন বলেন, কয়েক মাস আগে টিকার মজুত শেষ হয়ে গেছে। জেলা ইপিআই কেন্দ্রে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
চৌগাছা উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী নিত্যপদ পাল জানান, গত তিন মাস ধরে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশ ইপিআই টিকা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে আইপিভি ছাড়া অন্য কোনো টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোর রেজিস্টার অনুযায়ী, বিসিজি টিকা শেষ হয়েছে ১০ মার্চ, পিসিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট ২৬ ফেব্রুয়ারি, ওপিভি ও আইপিভি ১০ মার্চ, এমআর টিকা ১৪ এপ্রিল এবং টিসিভি টিকা গত বছরের নভেম্বরে শেষ হয়ে গেছে।
ইপিআই কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক রবিউল ইসলাম বলেন, স্টোরে কোনো টিকা নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। টিকা পৌঁছালে দ্রুত সব কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, টিকার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সরবরাহ এসে পৌঁছায়নি।








