বাণিজ্য
১ আগস্ট থেকে ঢাকা ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস রিয়াদ এয়ার আগামী ১ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে দ্রুত সম্প্রসারিত বাংলাদেশ-সৌদি আরব বিমানবাজারে এ উদ্যোগ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এয়ারলাইনটির এ প্রবেশ বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক রুটে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে। বর্তমানে এ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং সৌদিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।
রিয়াদ এয়ারের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন আজ বাসসকে বলেন, “আমরা এখন পরিচালনাগত প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। আগামী ১ আগস্ট থেকে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করব।”
তিনি জানান, ঢাকা-রিয়াদ রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনটি স্লটের আবেদন করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্লাইটটি দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে এবং বিকেল ৩টায় রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
সোহাগ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনায় ফ্লাইট সম্প্রসারণের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী ধাপে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর উন্নয়নসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রিয়াদ এয়ারের জন্য সব ধরনের নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর আগে পরিচালন সূচির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি রুটে বিশেষ করে ভাড়া, ট্রানজিট সংযোগ এবং সেবার মানের ক্ষেত্রে রিয়াদ এয়ারের আগমন প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনাকারী আরেকটি পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী উপসাগরীয় এয়ারলাইন যুক্ত হওয়ায় বিমান ভাড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়বে, যাত্রী সংযোগ উন্নত হবে এবং সৌদি আরবে বসবাসরত ও কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির জন্য ভ্রমণ সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে।”
তার মতে, রিয়াদ এয়ারের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভ্রমণখাতের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা এবং উপসাগরীয় বিমান নেটওয়ার্কে দেশের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের বৈঠকে ঢাকা রুটে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট চালুর আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তখন উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ চাহিদার প্রতিফলন।
২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা রিয়াদ এয়ার সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস, যা দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এয়ারলাইনটি পুরোপুরি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন। রিয়াদকে বৈশ্বিক বিমান ও লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।
এয়ারলাইনটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান নির্বাহী টনি ডগলাস। দ্রুত সম্প্রসারিত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, এয়ারবাস এ৩২১নিও এবং এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজ বহরের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০টির বেশি গন্তব্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ এয়ার দেশটির তেলনির্ভর নয় এমন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের বিমানবাজারে গত এক দশকে উপসাগরমুখী যাত্রী চলাচল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই প্রবাসী কর্মী ও ধর্মীয় ভ্রমণকারীদের কারণে ঘটেছে।








