জাতীয়
জামায়াত আমিরের নারীবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ১০ নারী প্রার্থীর

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)-এর ১০ নারী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীবিষয়ক বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘বাস্তবে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তাদের প্রচার করা লিফলেট বা ইশতেহারে যাই লেখা থাকুক না কেন, তারা নারীদের বিষয়ে গণতান্ত্রিক মনোভাব ধারণ করেন না।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত গণমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কোন নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবে না। সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসার উপযুক্ত নন।’ এরপর ৩১ জানুয়ারি জামায়াতের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিকতার নামে যখন নারীরা ঘর থেকে বের হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ ছাড়া কিছু নয়।’ যদিও পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে একাউন্ট হ্যাকের দাবি করা হয়।
এরপর ১ ফেব্রুয়ারি সকালে জামায়াতের আমির তার অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, ‘আমাদের ইশতেহার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট। আমরা রাজনীতি ও স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করি।’
বিবৃতিতে ১০ নারী প্রার্থী বলেন, ‘আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্য এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য একে অপরের পরিপন্থী। যদি তারা নারীর নেতৃত্বকে সমর্থন করেন, তাহলে কেন দলের প্রধান পদে নারী আসা সম্ভব নয় বললেন? এতে স্পষ্ট হয়, জামায়াত ইশতেহারে যা বলছে, বাস্তবে তা বিশ্বাস করে না এবং ভোটের জন্য গণতান্ত্রিক ও সমতার প্রচেষ্টা করছে না।’
নারী প্রার্থীরা আরও বলেন, ‘শুধু আমিরই নয়, জামায়াতের বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন সময় নারীদের অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। পরবর্তীতে চাপে পড়ে ক্ষমাও চেয়েছেন। বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান নির্বাচিত হওয়ার আগে ডাকসু বর্ণনা দিয়ে কটূক্তি করেছিলেন। জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার কথা। জামায়াতও এই ওয়াদা করেছে, কিন্তু একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।’
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘জামায়াতের এ ধরনের চিন্তা সমাজে নারীদের প্রতি চলমান অমর্যাদা ও অবমাননা বৃদ্ধি করবে। এটি কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলের জন্য কাম্য নয়।’
বিবৃতি প্রদানকারী প্রার্থীরা হলেন:
রংপুর-৪ আসনের প্রগতি বর্মণ তমা, গাইবান্ধা-৫ আসনের রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১ আসনের তৌফিকা দেওয়ান লিজা, ঢাকা-৫ আসনের শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের সীমা দত্ত, গাজীপুর-১ আসনের তসলিমা আক্তার বিউটি, মৌলভীবাজার-২ আসনের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫ আসনের মুনতাহার প্রীতি, চট্টগ্রাম-১০ আসনের আসমা আক্তার ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীপা মজুমদার।








