ক্যাম্পাস
খালেদা জিয়ার আসনে নির্বাচন করতে চাওয়া এনসিপি নেতা জবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কমিশনার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এহসানুল মাহবুব জোবায়ের। তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন জোবায়ের। পরে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে তাঁর দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তিনি আর প্রার্থী হননি। সে সময় তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায়ও দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের দাবি, জোবায়ের দীর্ঘদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্যাম্পাস সাংবাদিক বলেন, “জোবায়েরের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। এখন সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।”
আরেকজন সাংবাদিক বলেন, “সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক। সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়।”
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে জোবায়েরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভিসি অধ্যাপক ড রইছ উদ্দীন নিজ ক্ষমতা বলে তাকে নির্বাচন কমিশনার বানায়।
এদিকে সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব ছিল ব্যাপক। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে দাখিল এবং ২০১৬ সালে আলিম পাশ করেন। সে সময়ে থেকে তিনি ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত আছেন বলে অভিযোগ উঠে।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






