ক্যাম্পাস
বিদায় বেলায় সহকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন উপ-উপাচার্য ড. মো. কামাল উদ্দিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সদ্য বিদায়ী উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন দায়িত্ব হস্তান্তর করে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদায় নেন। দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্ক ও আন্তরিকতার বন্ধনে গড়ে ওঠা সম্পর্কের এই বিদায় মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই নিজেদের অনুভূতি সংবরণ করতে পারেননি।
বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছ থেকে বিদায় নেন। পরে তিনি তাঁর মূল কর্মস্থল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ফিরে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদায়ের সময় বিভিন্ন দপ্তরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, মানবিক ও সবার কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এমন একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তি। যখন যে প্রয়োজনে উনার সাথে কাজ করতে হয়েছে উনি সর্বোচ্চ সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, "স্যার কখনো পদমর্যাদার দূরত্ব তৈরি করেননি। যেকোনো সমস্যার কথা নিয়ে তাঁর কাছে গেলে তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। একজন প্রশাসক হিসেবে যেমন দক্ষ ছিলেন, তেমনি একজন মানুষ হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। তাঁর বিদায়ে আমরা সত্যিই শূন্যতা অনুভব করছি।"
আরেক কর্মচারী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "অনেক প্রশাসক আসেন-যান, কিন্তু সবাই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন না। কামাল স্যার আমাদের কাছে শুধু একজন উপ-উপাচার্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। আজ বিদায় জানাতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি।"
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ফিরে যাওয়ার আগে অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর তাঁর বিদায় শুধু একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের এক আবেগঘন অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখে সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিদায়ের এই মুহূর্তে।






