ক্যাম্পাস

বৃত্তির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের পাশে ‘মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলি’

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বৃত্তির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের পাশে ‘মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলি’- খবরের থাম্বনেইল ফটো

উচ্চশিক্ষায় আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে ‘মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলি’। বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।


রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত শিক্ষক লাউঞ্জে সংগঠনটির উদ্যোগে ‘বৃত্তি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।


সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ‘মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলি’ দেশের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বৃত্তি প্রদান করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বছরে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বৃত্তি পান।


বৃত্তিপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, “মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলির বৃত্তি আমার শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে অনেক সহায়তা করেছে। শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, এখান থেকে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। আমার মোরাল প্যারেন্ট নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ দেন, যা আমাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে। এই উদ্যোগ আমার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।”


সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটি একটি নৈতিক অভিভাবকত্বভিত্তিক উদ্যোগ। আমাদের লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আর্থিক সংকট যেন কোনো মেধার বিকাশে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই ‘মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলি’র কার্যক্রম দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।”


‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের সৃজনশীলতা নষ্ট করছে’—এই বিষয়ে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ফাহমিদা লিমার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোরাল প্যারেন্টিং ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ড. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) আফসানা রহমান এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।


উল্লেখ্য, সংগঠনটি ‘মোরাল প্যারেন্ট’, ‘মোরাল চাইল্ড’ ও ‘ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান’—এই তিন স্তরে পরিচালিত হয়। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, আইইএলটিএস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভাষা শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। এছাড়া ভলান্টিয়ারিং, বইপড়া উৎসব, ইংলিশ আড্ডা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ উদ্যোগের সঙ্গে ১,৫৫৮ জন মোরাল চাইল্ড, ৫৯৬ জন মোরাল প্যারেন্ট এবং ৯৬ জন ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান যুক্ত রয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর