ক্যাম্পাস
হিজাব অবমাননার প্রতিবাদে চবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

হিজাব অবমাননার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। জাতীয় সংসদে একজন বিএনপি নেতার হিজাব বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য এবং দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে সংগঠনটি ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল “আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য”, “ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?”, “পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার” এবং “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না”।
মানববন্ধনে শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার প্রশিক্ষণ বিভাগের সেক্রেটারি ও চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা বলেন, জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং নারী সাংসদদের কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাই।”
শাখা ছাত্রীসংস্থার সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আফরিদা রিমা বলেন, সম্প্রতি নারীদের নিয়ে একাধিকবার কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বক্তব্য প্রদানকারী মনিরুল হক তার বক্তব্যের জন্য এখনো কোনো অনুতাপ বা ক্ষমা প্রকাশ করেননি; বরং তিনি নিজের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের মন্তব্য করার সাহস না পায়।”
মানববন্ধনে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক তাওফীকা রহমান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, ধর্মীয় পোশাকের কারণে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।





