ক্যাম্পাস
জবির ছাত্রী হলে বিশেষ বৃত্তির অর্থ বণ্টনে অসংগতি, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

দীর্ঘ সংগ্রাম ও অপেক্ষার পর সম্পূরক বৃত্তির অর্থ পাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ বণ্টনে অসংগতি দেখা দিয়েছে। কেউ অর্ধেক অর্থ পেলেও আবার কেউ পুরো অর্থ পেয়েছেন। প্রশাসনের এমন বৈষম্যমূলক ও অসংগতিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তারা মেসে অবস্থানকালে মেস ভাড়ার রশিদ দিয়ে বৃত্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস আগে হলে উঠলেও তাদের অর্ধেক অর্থ দেওয়া হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থানরত কিছু শিক্ষার্থী পুরো অর্থ পেয়েছেন। কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এভাবে অর্থ বণ্টন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হলের আবাসিক এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোসা. সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমি হলে উঠেছি মাত্র এক সপ্তাহ হলো। আমাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা দুই-তিন বছর ধরে হলে থাকছে, তাদের আবার পুরো টাকা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে অর্ধেক দিলে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু প্রশাসনের এমন ভুল সিদ্ধান্ত ও উদাসীনতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
অন্যদিকে, আবেদন না করেও কিছু শিক্ষার্থীর হিসাবে বৃত্তির অর্থ জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু ব্যাংক হিসাব হালনাগাদ করেই অনেকে অর্থ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থী আক্তার মনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের আবেদন করিনি। ভেবেছিলাম হলে থাকা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে না। শুধু আমার স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর যুক্ত করেছিলাম। এরপরও আমার হিসাবে পুরো ৯ হাজার টাকা এসেছে। কেন এমন হয়েছে, তা আমি জানি না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি এক বছরের বেশি সময় ধরে হলে অবস্থান করছি। আমার হিসাবে পুরো অর্থ জমা হয়েছে।”
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, “বৃত্তির অর্থ বণ্টনের বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “হলের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে হয়তো প্রশাসনিক কোনো ভুল হয়েছে অথবা তথ্য যাচাইয়ে ত্রুটি ছিল। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রশাসনের কাছেই রয়েছে, তাহলে তথ্য গোপনের প্রশ্ন আসে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সেক্ষেত্রে কোথায় ভুল হয়েছে, তা আমরা তদন্ত করে দেখব।”
উল্লেখ্য, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে ‘যমুনা আন্দোলন’ কর্মসূচিতে অংশ নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিশেষ বা সম্পূরক বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে মাত্র ১০ কোটি টাকা পৌঁছায়। এরই মধ্যে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির অর্থ বণ্টনে বৈষম্য এবং পূর্বঘোষণা ছাড়াই অর্ধেক অর্থ প্রদানের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।







