ক্যাম্পাস

জবিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

জবিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতের আশঙ্কা এবং সংকট মোকাবিলায় 'Combating Climate Change: The Role of Media and Youth' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রোববার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।


সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণ সমাজ, গণমাধ্যম, গবেষক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।


কী-নোট স্পিকারের বক্তব্যে শাহ ইশরাত আজমেরী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা শুধু বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব নয়; প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, নেতৃত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড এ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইসাথে গণমাধ্যমের জলবায়ু সংকট সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করতে সহায়তা করে।"


তিনি আরও বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সরকারের ওপর নির্ভর না করে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।"


অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দ্য ডেইলি স্টারের চিফ রিপোর্টার (কান্ট্রি) পিনাকী রায় বলেন, ”জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দূর ভবিষ্যতের সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভিন্ন ভিন্নভাবে দৃশ্যমান। রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা সেচ সংকটে কৃষি ছেড়ে আমচাষে ঝুঁকছেন। আবার খুলনায় লবণাক্ততার কারণে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলে আগাম বন্যায় কৃষকদের একমাত্র ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।"


তিনি আরও বলেন, "এসব বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং জলবায়ু সংকটের প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমের। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ পাবেন।"


বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড মো রইছ উদ্দীন পরিবেশ ধ্বংসকারীদের 'জাতির শত্রু' হিসেবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


তিনি আরও বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুব সমাজ ও মিডিয়াকে আপসহীন ভূমিকা রাখতে হবে। একই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাস জমি দখল ও গাছ কাটা রুখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুুুলতে হবে।"


সেমিনার শেষে ক্যাম্পাসে গাছ লাগানো কর্মসূচী পালন করা হয়।


সম্পর্কিত খবর