ক্যাম্পাস
ফল প্রকাশের দুই মাস পরও হলে ছাত্রদল নেতা, ‘মৌখিক অনুমতি’র দাবি প্রাধ্যক্ষের

ছবি : সংগৃহীত
চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হলের ১৭৪ নম্বর কক্ষে এককভাবে (সিঙ্গেল রুমে) অবস্থান করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ফলাফল শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মে আরিফুল ইসলামের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করার কোনো নিয়ম নেই।
হলে থাকার কারণ জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, "আমাদের ফল প্রকাশিত হয়েছে এটা ঠিক। তবে বর্তমানে একটি বিশেষ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের কারণে আমি হলে অবস্থান করছি। আমাদের একটি থিসিস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি একটি ‘হিট প্রজেক্ট’-এর আওতায় পিএইচডি পরীক্ষাসহ ভাইভা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রমে অংশ নিতে এসিই (ACE)-এর মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এবং সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাধ্যক্ষ তাকে এক মাসের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, "আরিফুল গত মাসে জুলাই পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। তবে সেই আবেদনপত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি, সাময়িকভাবে কেবল একটি মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম।"
প্রাধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হলের রেজিস্টারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে তারা এখনও কোনো প্রতিবেদন জমা দেননি। সাধারণত গবেষণা বা বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ দিনের সাময়িক সুযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন হলে অবস্থানের কোনো বিধান নেই। নতুন শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ হয়ে গেলে তাকে কক্ষ ছেড়ে দিতে হবে।
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হলে থাকার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কোনো শিক্ষার্থীর অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হলে অবস্থান করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে হল প্রশাসনের এখতিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কারও হলে থাকার সুযোগ নেই এবং ছাত্রদলও এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা ও অনিয়মকে সমর্থন করে না।"







