আন্তর্জাতিক

ওমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি, বৈঠকের আগেই খামেনিকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ওমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি, বৈঠকের আগেই খামেনিকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তার খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত।”


বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে আলোচনার স্থান ও আলোচ্যসূচি নিয়ে মতভেদের কারণে বৈঠকটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়।


ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, শুক্রবার মাসকাটে আলোচনার সময় নির্ধারিত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান সরকারের ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হোয়াইট হাউসও আলোচনার প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নতুন পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি তারা এমন কিছু করে, তবে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের একটি বড় অংশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে ইরানও প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনাকে অর্থবহ করতে হলে কেবল পরমাণু কর্মসূচি নয়—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে ইরান বরাবরই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করে আসছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।


উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, ইসরাইলি হামলা এবং আঞ্চলিক মিত্র হারানোর কারণে দেশটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে রয়েছে।


এমন প্রেক্ষাপটে মাসকাটে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠককে পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক উত্তেজনা নিরসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


সম্পর্কিত খবর