খেলাধুলা
ফিলিস্তিনিদের জন্য যার মায়া নেই, সে মানুষ নয়: মিসোর কোচ হোমাস

ছবি : সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ দেখে যার হৃদয় স্পর্শিত হয় না, সে প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়- সে আরব, ইউরোপীয় বা আমেরিকান যেই হোক না কেন।
এর আগে নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করার পর সেই সাফল্য ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেন হাসান। ম্যাচ শেষে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সংহতিও প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা ছিল না, বরং একজন মানুষের স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।
হাসানের ভাষ্য, বিশ্বের কোথাও কোনো প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলে সবাই সোচ্চার হয়, অথচ হাজার হাজার নিরীহ মানুষের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখন যেন অনেকের কাছে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তিনি মনে করেন, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।
নিজেকে প্রথমে একজন মানুষ, পরে একজন আরব হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিসরের এই কোচ বলেন, ফিফা যেভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের কথা বলে, একইভাবে মানুষের জীবন ও বেঁচে থাকার অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু রয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে, পাশাপাশি বহু ক্রীড়াবিদও প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।
মানবিক ইস্যুর পাশাপাশি আসন্ন আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হোসাম হাসান। তিনি বলেন, তার দলের স্বপ্ন অনেক বড় এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারকে সামনে পেয়েও তারা ভীত নন বলে জানান তিনি।
হাসানের মতে, মিসর শুধু নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে না; তারা পুরো আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে মিসর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়বে।







