ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের টাকায় গড়া জকসু ফান্ড, ছয় মাসেও অর্থ পায়নি জকসু

মোহন খোন্দকার, জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

শিক্ষার্থীদের টাকায় গড়া জকসু ফান্ড, ছয় মাসেও অর্থ পায়নি জকসু- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস পার হলেও প্রশাসনের কাছ থেকে জকসু ফান্ডের কোনো অর্থ পায়নি শিক্ষার্থী সংসদ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী কর্মসূচির বাজেট, রেজুলেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই তহবিল থেকে অর্থ ছাড় দেওয়া হবে।


অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে ১০০ টাকা করে জকসু ফান্ডের নামে অর্থ আদায় করা হলেও তহবিলের আয়-ব্যয়ের কোনো প্রকাশ্য হিসাব এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এতে তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।


চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে জকসু ফান্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। সে হিসাবে প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১৭ লাখ টাকা করে তহবিলে জমা হওয়ার কথা। দুই সেমিস্টার মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হলেও এখন পর্যন্ত মোট কত টাকা আদায় হয়েছে, কোন খাতে ব্যয় হয়েছে কিংবা বর্তমানে তহবিলে কত অর্থ রয়েছে এসব বিষয়ে প্রশাসন বা জকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।


শিক্ষার্থীদের দাবি, জকসু ফান্ডের অর্থ দ্রুত শিক্ষার্থী সংসদের কাছে হস্তান্তর করে কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তহবিলে কত অর্থ রয়েছে, কীভাবে তা পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মারুফ বলেন, “আমরা জকসুর জন্য টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন শুনছি সেই অর্থ এখনো প্রশাসনের কাছেই রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যদি এই অর্থ ব্যবহৃতই না হয়, তাহলে তা আদায়ের উদ্দেশ্য কী? প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই অর্থ জকসুর কাছে হস্তান্তর করা।”


জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই জকসু ফান্ডের বিষয়ে তারা সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জকসু ফান্ডের অর্থ শিক্ষার্থী সংসদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রথমে প্রশাসন ফান্ডের অর্থ জকসুর হিসাবে স্থানান্তরের আশ্বাস দিলেও এখন অন্যান্য ক্লাব ও সংগঠনের মতো ফাইলভিত্তিক অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলছে, যা জকসুর গঠনতন্ত্রে নেই। নিজেদের সুবিধামতো এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফান্ডের অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। এতে জকসুর কার্যক্রম অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতায় পড়বে।”


‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদসমূহের গঠন ও পরিচালনা বিধিমালা-২০২৫’-এর ১৮(৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোষাধ্যক্ষ সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সম্পাদককে বাজেটে বরাদ্দ অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ প্রদান করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীরা রশিদ, ভাউচার ও আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেবেন। সাধারণ সম্পাদক সমন্বিত হিসাব কোষাধ্যক্ষের কাছে দাখিল করবেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জকসুর ফান্ডের অর্থ নগদভাবে বিতরণের সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী সংসদকে কর্মসূচি, রেজুলেশন, বিভাগভিত্তিক বাজেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী যে খাতে যত অর্থ প্রয়োজন, সেই বাজেটের ভিত্তিতেই অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই ফান্ড পরিচালনা করা হবে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “জকসুর অর্থ আটকে রাখা হয়নি। আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী কর্মসূচির রেজুলেশন, বাজেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও অডিটের স্বার্থে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অর্থ ব্যয় করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলেই সংরক্ষিত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হলে জকসুর প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।”


সম্পর্কিত খবর