আরও
জেনে নিন বন্যায় নামাজ পড়বেন যেভাবে

ছবি : সংগৃহীত
নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। কোনো পরিস্থিতিতেই ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তব অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, মসজিদে যাওয়া সম্ভব হয় না কিংবা নামাজ আদায়ের উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নামাজ আদায় করবেন-ইসলামে তার দিকনির্দেশনা রয়েছে।
শুকনো ও পবিত্র জায়গা খুঁজে নেওয়া
নামাজের জন্য জায়গা পবিত্র হওয়া জরুরি। বন্যার সময় প্রথমে চেষ্টা করতে হবে এমন কোনো স্থান খুঁজে নিতে, যেখানে নিরাপদে নামাজ আদায় করা সম্ভব। যেমন ঘরের উঁচু অংশ, ছাদ, বারান্দা, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিষ্কার জায়গা বা নৌকার নিরাপদ স্থান।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘সমগ্র পৃথিবীকে আমার জন্য পবিত্র ও নামাজের উপযোগী করা হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩৫; সহিহ মুসলিম: ৫২১)
অজু করা সম্ভব না হলে তায়াম্মুম
বন্যার সময় কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন অজুর জন্য পানি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। পানি থাকলেও তা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বা নিরাপদে পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘...অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো...।’ (সুরা মায়েদা: ৬)
তায়াম্মুমের বিধান বিপদের সময় মুসলমানদের জন্য একটি সহজীকরণ।
দাঁড়িয়ে নামাজ সম্ভব না হলে
বন্যার সময় কারও এমন অবস্থা হতে পারে যে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মতো জায়গা নেই বা দাঁড়ালে নিজের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বসে নামাজ পড়া যাবে। বসাও সম্ভব না হলে ইশারায় নামাজ আদায় করার সুযোগ রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো; যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বসে পড়ো; তাও সম্ভব না হলে শুয়ে।’ (সহিহ বুখারি: ১১১৭)
পানির মধ্যে নামাজ আদায়ের বিধান
বন্যার পানিতে আটকে পড়লে পরিস্থিতি অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে। হানাফি ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, পানি যদি এতটা কম হয় যে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব এবং রুকু করা যায়, তাহলে রুকু করে নামাজ আদায় করবে; তবে সেজদা সম্ভব না হলে ইশারায় করবে। আর যদি রুকুও করা সম্ভব না হয়, তাহলে রুকু ও সেজদা উভয়টিই ইশারার মাধ্যমে আদায় করবে। তবে পানি যদি এত বেশি হয় যে সেখানে স্থিরভাবে দাঁড়ানো বা নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, তাহলে ওই অবস্থায় নামাজ আদায় না করে পরে কাজা করার অবকাশ রয়েছে। (হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিয়িল ফালাহ: ৪০৭)
কিবলা নির্ধারণ করতে না পারলে
বন্যার সময় অনেকেই অপরিচিত জায়গায় আশ্রয় নেন। মেঘলা আকাশ, রাতের অন্ধকার বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কিবলার দিক নির্ধারণ কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে দিকে কিবলা হওয়ার প্রবল ধারণা হয়, সেদিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন। পরে ভুল প্রমাণিত হলেও, যথাযথ চেষ্টা করে আদায় করা নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না।
ভেজা কাপড় বা কাদা লাগলে নামাজ হবে কি?
বন্যার পানিতে কাপড় ভিজে যাওয়া বা কাদা লাগা মানেই কাপড় নাপাক হয়ে যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা না যায় যে এতে নাপাকি (যেমন মলমূত্র) লেগেছে, ততক্ষণ শুধু সন্দেহের কারণে কাপড়কে অপবিত্র মনে করা যাবে না।
ইসলামের একটি মূলনীতি হলো- নিশ্চিত বিষয় শুধু সন্দেহের কারণে দূর হয় না।
মসজিদে যেতে না পারলে
বন্যার কারণে মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘর, আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্যকোনো নিরাপদ স্থানে নামাজ আদায় করা যাবে। অসুস্থতা, ভয় বা দুর্যোগের মতো ওজরের কারণে জামাত থেকে অনুপস্থিতির সুযোগ রয়েছে।
বন্যার কারণে জুমা আদায় সম্ভব না হলে
বন্যার কারণে কেউ যদি এমন স্থানে আটকা পড়েন, যেখানে জুমার নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় জামাত ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়, তাহলে তার ওপর জুমার নামাজ আদায় করা আবশ্যক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে তিনি জোহরের নামাজ আদায় করবেন।
হানাফি ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য জামাতের উপস্থিতি অন্যতম শর্ত। ইমাম ছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুসল্লি না থাকলে জুমা আদায় সহিহ হয় না। (রদ্দুল মুহতার: ৩/২৪)
দুর্যোগের সময় আল্লাহর দিকে ফিরে আসা
বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে। এমন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজের ইবাদত অব্যাহত রাখা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)
আল্লাহ আমাদের সব ধরনের বিপদ থেকে হেফাজত করুন, দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের কষ্ট লাঘব করুন এবং আমাদের ইবাদতগুলো কবুল করুন।






