আরও
সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার: তাবায়্যুন ও তাসাব্বুতের গুরুত্ব

বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির এইসময়ে সংবাদের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রাম এবং ইউটিউব দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মানুষের নিকট। BTRC-র তথ্য মতে ফেব্রুয়ারী-২০২৫ পর্যন্ত মোট ১৩২.৮ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী; এর মধ্যে ১১৯.০৬ মিলিয়ন মোবাইল ইন্টারনেট, ১৩.৭৪ মিলিয়ন হচ্ছে ISP/ PSTN ব্যবহারকারী। NapoleonCat-এর ২০২৫ সালের জুনের তথ্য মতে প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী এই ইন্টারনেট ব্যবহার পরিসংখ্যান Facebook: ৬৭.১৮ মিলিয়ন, Instagram: ৭.১৯ মিলিয়ন, Messenger: ৬০.৪৯, মিলিয়ন LinkedIn: ১০.৮৬ মিলিয়ন। Journal of Health, Population and Nutrition এর এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৪–৭৫% সংগঠিতভাবে প্রতিদিন ২–৬ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করেন। Prioridata-এর ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করা হয় ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট /দিন। সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বেশী সময় ব্যয় করছে ১৫-৩৫ বছরের বয়সী জেনারেশন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই মাধ্যমগুলো সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে সংবাদ বা তথ্য শেয়ার এবং রিলস ভিডিও দেখার মাধ্যমে। এই মাধ্যমগুলোতে যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারিত হয় একইভাবে এখানে ফেইক/বানোয়াট ও মিথ্যা সংবাদও প্রচার লাভ করছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সংবাদ যাচাই এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে, যাতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে। সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ইসলাম তাবায়্যুন এবং তাসাব্বুতের নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদ প্রচারে ফিকহের মৌলিক নীতিমা হলো "الأصل في الأخبار التثبت، خاصة إذا كانت من مجهول أو فاسق." সংবাদ বিষয়ে মূলনীতি হলো যাচাই-বাছাই; বিশেষ করে যদি সংবাদদাতা অজানা বা ফাসিক হয়।(তাফসীর আল-কুরতুবী,সূরা হুজুরাত ৪৯ঃ ৬)
তাবায়্যুনের মাধ্যমে আমরা সংবাদ পরিবেশনের পূর্বে, মূলত কোন বিষয়বস্তু সম্বন্ধে নিবিড় গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। এর ফলে সংবাদটি জনগণের মধ্যে সঠিক ও অপসংবেদের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পায়। আর অন্যদিকে, তাসাব্বুত সংবাদ প্রদান কিংবা শেয়ার করার আগেই তা নিশ্চিত করে নেয়ার প্রক্রিয়া, যা সংবাদকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌۭ بِنَبَإٍۢ فَتَبَيَّنُوٓا أَن تُصِيبُوا قَوْمًۭا بِجَهَـٰلَةٍۢ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَـٰدِمِينَ "হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে দেখো, যাতে তোমরা না জেনে কোনো সম্প্রদায়কে কষ্ট না দাও, অতঃপর তোমরা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।"(আল-কুরআন ৪৯ ঃ৬) এ আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ হলো, বনিল-মুস্তালিক গোত্রের সরদার, উম্মুল মুমিনিন জুয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর পিতা হারেস ইবনে দ্বিরারের নিকট ওলিদ ইবনে ওকবা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে যাকাত গ্রহণের জন্য পাঠান। কিন্তু পথিমধ্যে ওলিদ ইবনে ওকবা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মনে ধারণা জাগ্রত হয় যে, এই গোত্রের লোকদের সাথে তার পুরাতন শক্ৰতা আছে। কোথাও তারা তাকে পেয়ে হত্যা না করে ফেলে। এই ভয়ের কথা চিন্তা করে তিনি সেখান থেকেই ফিরে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে যেয়ে বলেন যে, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করারও ইচ্ছা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ প্রেরণ করলেন।
এদিকে মুজাহিদ বাহিনী রওয়ানা হলো এবং ওদিকে হারেস জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনারা কোন গোত্রের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন? উত্তর হলোঃ আমরা তোমাদের প্রতিই প্রেরিত হয়েছি। হারেস কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে ওলিদ ইবনে ওকবা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রেরণ ও তার প্রত্যাবর্তনের কাহিনী শুনানো হলো এবং ওলিদের এই বিবৃতিও শুনানো হলো যে, বনিল-মুস্তালিক গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এ কথা শুনে হারেস বললেনঃ সে আল্লাহর কসম, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে রাসূল করে প্রেরণ করেছেন, আমি ওলিদ ইবনে ওকবাকে দেখিওনি। সে আমার কাছে যায়নি।
অতঃপর হারেস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি যাকাত দিতে অস্বীকার করেছ এবং আমার দূতকে হত্যা করতে চেয়েছ? হারেস বললেনঃ কখনই নয়; সে আল্লাহর কসম, যিনি আপনাকে সত্য পয়গামসহ প্রেরণ করেছেন, সে আমার কাছে যায়নি এবং আমি তাকে দেখিও নি। নির্ধারিত সময়ে আপনার দূত যায়নি দেখে আমার আশঙ্কা হয় যে, বোধ হয়, আপনি কোন ত্রুটির কারণে আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই আমরা খেদমতে উপস্থিত হয়েছি। হারেস বলেন, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা হুজুরাতের আলোচ্য আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৭৯, ৩/৪৮৮)
রাসূল সঃ এর নিকট ওলিদ ইবনে ওকবা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে রাসূল সঃ খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ প্রেরণ করেন এবং যাত্রাপথেই বনিল-মুস্তালিক গোত্রের সাথে তাদের সাক্ষাতে সংবাদের তাবায়্যুন উঠে আসে। এমন সংবাদের পরে উভয়ের মধ্যে সন্দেহের জায়গা তৈরী হয়। যার ফলে আল্লাহ তায়ালা আয়াতটি নাযিল করে এমন সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচ্য শানে নুযূল থেকে কারো সম্পর্কে ধারণা বশত অনুমান নির্ভর সংবাদ প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে বলেন, وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُو۟لَـٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْـُٔولًۭا “তুমি এমন কিছুর অনুসরণ করো না, যার জ্ঞান তোমার নেই। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয় সব কিছুরই জবাবদিহি করতে হবে।”(আল-কুরআন ১৭ঃ ৩৬) অনুমান নির্ভর এমন কোনো কাজ করা যার সুস্পষ্ট জ্ঞান আপনার নেই কিংবা যা আপনি আপনার আদর্শে দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য কিংবা বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যে এমন কোনো সংবাদ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে দিচ্ছে যার কোনো ভিত্তি নেই অথবা যা উদ্দেশ্য প্রনোদীত, এসব সংবাদ প্রচারের জন্য আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আপনাকে পাকড়াও করবেন। «"كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ" : ﷺ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ “একজন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে যা-ই শোনে, তা-ই বলে।” (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল মুকাদ্দামা, খন্ড ১, হাদিস ৬) আলোচ্য হাদিস থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, যখন কোনো বিষয়ে আপনার নিকট সংবাদ আসবে আপনি তা প্রথমে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে যাচাই করে নিবেন। এরপর তা প্রচারের কিংবা মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিবেন। কোনো তথ্য আসার সাথে সাথে যেমন প্রচার করা বৈধ নয় ঠিক তেমন-ই সকল তথ্য প্রচার থেকে মুখ ফিরিয়েও নেয়া যাবেনা। অবশ্যই যাচাই করার মাধ্যমে সত্য নির্ভরযোগ্য তথ্য আম জনতার জ্ঞাতার্থে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রচার করতে হবে।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা নাগরিক দায়িত্ব সমূহের একটি। ইসলাম এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিপরীতে গুজব, অপপ্রচার এবং দলীয় কিংবা ব্যক্তির স্বার্থ হাসিল এবং সম্মানহানীর উদ্দেশ্যে তথ্য শেয়ার বেশী করা হয়। গুজবের বিষয়ে হাদিসে এসেছে الْغَافِلِ إِنَّ الشَّائِعَةَ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ الشَّيْطَانِ، يُصِيبُ بِهَا قَلْبَ “গুজব হলো শয়তানের তীরসমূহের একটি তীর, যা সে অসচেতন হৃদয়ে আঘাত করে।”(মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা,কিতাবুস শুয়াইয়াহ,খন্ড ৩,হাদিস ২৬৫৮৪)
অনুমাননির্ভর ও যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারে সতর্কতা অবলম্বনের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রচারিত সংবাদটি যেনো অনুমান নির্ভর না হয় সে বিষয়ে ইসলাম সর্বোর্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ ٱلظَّنِّ إِثْمٌۭ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ "হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কিছু কিছু ধারণা গুনাহ। আর তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করো না এবং তোমাদের কেউ যেন অপরের পশ্চাতে নিন্দা না করে।"(আল-কুরআন ৪৯ঃ১২) আলোচ্য আয়াতে অধিক ধারণা না করার পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং পরনিন্দা না করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার সিংহ ভাগ সংবাদ করা হয় ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দরুন অন্যের সম্মান হানি করতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
রাসূল সঃ বলেন , وَيَدِه الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ “যে মুসলমানের হাত ও জিহবা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।”(সহিহ বুখারি: খণ্ড ১, হাদিস ১০; সহিহ মুসলিম: খণ্ড ১, হাদিস ৪১) ইমাম নববী (রহ.) বলেন "এই হাদিসে ইসলামের একটি মৌলিক সামাজিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত মুসলিম হওয়ার মানে শুধু আচার-অনুষ্ঠান নয় বরং অন্য মানুষের প্রতি তার ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। মুখ (জিহ্বা) দ্বারা গীবত, অপবাদ, অপমান ও মিথ্যা এবং হাত দ্বারা জুলুম, নির্যাতন, লাঞ্ছনা করা ইসলামের পরিপন্থী।" (শরহ সহিহ মুসলিম, ইমাম নববী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৯–৫০) ইবন হাজার (রহ.) বলেন "এই হাদিসে রাসূল ﷺ মুসলিম পরিচয়ের একটি সামাজিক পরীক্ষা দিয়েছেন। শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, তার দ্বারা অন্যরা কতটা নিরাপদ—এটাই তার মুসলিম হবার মাপকাঠি। মুসলমানের ভাষা ও কর্ম যেন অন্য কারো ওপর জুলুমের কারণ না হয়।"(ফাতহুল বারী, খণ্ড ১, হাদিস ১০-এর ব্যাখ্যা)
কারো নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা কিংবা প্রচারের নির্দেশ দেয়া অথবা প্রচারে সহোযোগীত করা ইসলামে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিসে এর বিষদ আলোচনা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًۭا وَإِثْمًۭا مُّبِينًۭا “যারা মুমিন পুরুষ ও নারীকে তাদের অর্জিত (অপরাধ) ব্যতীত কষ্ট দেয়, তারা নিশ্চয়ই একটিমাত্র অপবাদ ও স্পষ্ট গোনাহের বোঝা বহন করে।”(আল-কুরআন ৫৩ঃ ৫৮) ইচ্চাকৃতভাবে যারা অন্যের সম্মানহানি করে এবং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তার ক্ষতিসাধন করে অথবা অপবাদ দেন তারা স্পষ্টতই বুহতানে নিমজ্জিত, যা অত্যান্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাসুল সঃ বলেন,
من بهت مؤمنًا أو مؤمنة، أو قال فيه ما ليس فيه، أسكنه الله ردغة الخبال حتى يخرج مما قال যে ব্যক্তি কোনো মুমিন বা মুমিনার বিরুদ্ধে এমন কিছু বলে যা তার মধ্যে নেই (অর্থাৎ অপবাদ দেয়), আল্লাহ তাকে জাহান্নামের সবচেয়ে গভীর গর্তে রাখবেন যতক্ষণ না সে নিজের কৃতকর্ম থেকে মুক্তি পায়।”(মুসনাদে আহমাদ,হাদিস: ৮০১৯)
ইসলাম যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে উৎসাহ দিয়েছেন ঠিক একইভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের প্রচারে কঠোরতা অবলম্ভন করেছেন। মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে অন্যের সম্মানহানি করা কিংবা অপবাদ দেয়ার মাধ্যমে তার সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবৃদ্ধ করা ইসলাম হারাম করেছেন। যারা এই ধরনের কাজের সাথে জড়িত তারা কবিরাহ গুনাহকারীদের দলে শামিল হোন এবং তাদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থান। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ইসলাম সত্য সংবাদ প্রচারে উদ্বুদ্ধ করে এবং যাচাইবিহীন সংবাদ ও গুজব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো সংবাদ শেয়ার করার পূর্বে ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই ও নিশ্চিত হওয়া একান্ত জরুরি, যাতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।






