আরও

আমেরিকায় মে দিবস পালিত হয় না কেনো?

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারঃ

আমেরিকায় মে দিবস পালিত হয় না কেনো?- খবরের থাম্বনেইল ফটো

মে দিবস নয়, ওয়ার্কার্স ডে পালন করে আমেরিকা। ছবি: উইকিপিডিয়া

পহেলা মে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হলেও, যে দেশে এই আন্দোলনের সূচনা, সেই যুক্তরাষ্ট্রে দিনটি রাষ্ট্রীয় ছুটি নয়। ইতিহাসের এই বৈপরীত্যের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সময়ের প্রেক্ষাপট।


১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে যে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়, তা রক্তাক্ত পরিণতির মধ্য দিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। 'হে মার্কেট ঘটনা' নামে পরিচিত সেই ঘটনার পর শ্রমিক আন্দোলন আরও বিস্তৃত হলেও, একই সঙ্গে তা শাসকদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন, পহেলা মে-কে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বড় সমাবেশ সহিংসতা উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে হে মার্কেটের ঘটনার পর বিক্ষোভ, অরাজকতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা ছিল প্রবল। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, মে মাসের বদলে সেপ্টেম্বর মাসে একটি আলাদা দিনে শ্রমিক দিবস পালন করা হবে।


ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় ‘লেবার ডে’ পালিত হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবার। এই দিনটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ উৎসব হিসেবে গড়ে ওঠে, যেখানে শ্রমিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়িয়ে চলা হয়।


অন্যদিকে, পহেলা মে আন্তর্জাতিক পরিসরে শ্রমিকদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিশ্বের প্রায় ৮০টির বেশি দেশে এটি সরকারি ছুটিসহ পালিত হয়ে আসছে।


বাংলাদেশেও মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো র‍্যালি, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি তুলে ধরে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে বাণী প্রদান করেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পহেলা মে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন না হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। বরং এই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


শ্রমিক দিবস আজ একটি ‘রেড লেটার ডে’, যা স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিকদের ঘাম, পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগেই এগিয়ে চলে অর্থনীতির চাকা। আধুনিক কর্মপরিবেশ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, শ্রম আইন এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।


সম্পর্কিত খবর