খেলাধুলা

না ফেরার দেশে পারি জমালেন কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স

ডেস্ক

শেয়ারঃ

না ফেরার দেশে পারি জমালেন কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

মারা গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এবং ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় স্যার গ্যারি সোবার্স। বার্বাডোজে নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


এক্সে করা এক পোস্টে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের জানিয়েছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান হলো। আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থাকবে, স্যার গারফিল্ড সোবার্সের নাম।’


ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত সোবার্স। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগে দক্ষতার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটারের তকমা পেয়েছেন তিনি।


১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসাবে এক ওভারে ছয়টি ছয় মারেন তিনি।


প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সুবাদে ১৯৫৪ সালে অভিষেক হয় তার। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেন সোবার্স। ব্যাট হাতে ২৬ সেঞ্চুরি এবং ৩০ হাফ-সেঞ্চুরিতে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮০৩২ রান এবং বোলিংয়ে ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি।


টেস্ট অভিষেকের পর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান সোবার্স। কিংস্টনে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে ৩৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন সোবার্স।


১৯৯৪ সালে সেন্ট জোন্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭৫ রান করে সোবার্সের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙেন স্বদেশি ব্রায়ান লারা। ১৯৬৪ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হন সোবার্স। ২০০০ সালে উইজডেনের দেওয়া শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আইসিসি হল অব ফেম চালু হয়। ঐ সময় হল অব ফেমে অর্ন্তুভুক্ত করা হয় সোবার্সের নাম।


আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারের নামকরণ করা সোবার্সের নামেই। সেটি হল- ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।’


এটি আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন আইসিসি সভাপতি জয় শাহ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের মহীরুহ এবং সত্যিকারের ক্রীড়া কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড ‘গ্যারি’ সোবার্সের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার অসাধারন সাফল্য এবং খেলার প্রতি দুর্দান্ত ও অবিস্মরণীয় অবদান সারা বিশ্ব জুড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সকল ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার পরিবার, বার্বাডোজের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’


সোবার্সকে স্মরণ করে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি ড. কিশোর শ্যালো বলেন, ‘সোবার্স শুধু সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারই নন। ক্যারিবিয় জনগনের আত্মবিশ্বাস ও গর্বের প্রতীক ছিলেন। ব্যাট-বল ও ফিল্ডিং- সব বিভাগেই তার দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। মাঠের বাইরেও কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি। ছোট দ্বীপ থেকেও বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, সেটি তিনি প্রমান করেছেন।’



সোবার্সের প্রয়াণে সারা বিশ্বের ক্রিকেট অনুরাগীদের মতো লারাও শোকে মূহ্যমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোবার্সকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লারা লিখেছেন, ‘আমাদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। কঠিন সময়ে তারা যেভাবে স্যার সোবার্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে সমর্থন জুগিয়েছেন তার জন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শান্তিতে বিশ্রাম নিন কিংবদন্তি। আপনার কীর্তি চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।’


এক্স হ্যান্ডলে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। তিনি লিখেন, ‘স্যার গ্যারি আর আমাদের মধ্যে নেই এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। গত কয়েক বছরের স্মৃতি বারবার মনে পড়ছে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে আমার হাতে যখন সেরা খেলোয়াড়রে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম শতরান করার পর যে ভাবে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন, সেই সব মুহূর্ত আবারও যেন চোখের সামনে ভেসে আসছে। তিনি সবসময়ই ছিলেন বিনয়ী, আন্তরিক ও উদার মনের মানুষ।’

সোবার্সের সাথে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে টেন্ডুলকার আরও লিখেছেন, ‘কয়েক বছর আগে লন্ডনে আমাদের দেখা হয়েছিল। আমরা দীর্ঘক্ষণ ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ বারবার সেই মুহূর্তটাই মনে পড়ছে। তখন কল্পনাও করতে পারিনি, সেটাই হবে আমাদের শেষ দেখা।’


প্রথম শ্রেণিতে ৩৮৩ ম্যাচ খেলে ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮,৩১৪ রান করার পাশাপাশি ২৭.৭৪ গড়ে ১০৪৩টি উইকেট নেন সোবার্স।


সম্পর্কিত খবর