ক্যাম্পাস

আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ!

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ!- খবরের থাম্বনেইল ফটো

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিজয় দিবস হলের ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাতের খাবারে রুপচাঁদা মাছের নামে অতিরিক্ত মূল্যে পিরানহা মাছ পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার সময় মাছের দাঁত দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্দেহ প্রকাশ করলে ডাইনিং কর্তৃপক্ষ প্রথমে সেটিকে রুপচাঁদা মাছ বলে দাবি করে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখে ডাইনিং পরিচালক মনির ইসলাম মাছটি পিরানহা বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।


বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিজয় দিবস হলের আবাসিক মাসুম পারভেজ বলেন, “আমাদের হলের ডাইনিংয়ে নিয়মিত পিরানহা মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার ডাইনিং কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”


অভিযোগের বিষয়ে ডাইনিং পরিচালক মনির ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি এ ধরনের মাছ খেতে না চায়, তাহলে ভবিষ্যতে ডাইনিংয়ে আর এ ধরনের মাছ রান্না করা হবে না।”


বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের নিষিদ্ধ মাছ ডাইনিংয়ে পরিবেশনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এছাড়া এর আগেও একই ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উঠেছিল। একবার পুঁইশাক খোসাসহ রান্না করে পরিবেশনের ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দেয়।


উল্লেখ্য ২০০৮ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে পিরানহা মাছের চাষ, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, প্রদর্শন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করা হয়। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী দেশে যেকোনো উপায়ে পিরানহা মাছের বিস্তার ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর