খেলাধুলা

ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় কপাল পুড়ছে ফিফা সভাপতির!

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় কপাল পুড়ছে ফিফা সভাপতির!- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করছে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস। সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সম্পর্ক ফিফার ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং উয়েফা ও বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।


ইনফান্তিনো আগেও বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ২০১৮ সালে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, ২০২২ সালে কাতারের আমির শেখ তামিম, ২০৩৪ বিশ্বকাপের সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো) ঘিরে ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল একদম আলাদা ও নজিরবিহীন।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজে টুর্নামেন্ট আয়োজনের টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব নেন এবং সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব রাখতে শুরু করেন। হোয়াইট হাউসকে বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু করে তোলা হয়। ইনফান্তিনো ও বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ট্রাম্পের বারবার হোয়াইট হাউসে উপস্থিতি, ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি হস্তান্তর মঞ্চে ট্রাম্পের অবস্থান এবং ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়ার বিষয়গুলো কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। এছাড়া মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পেছনে ট্রাম্পের ফোন করাও ফিফার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।


এই রাজনৈতিক চাপের মধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা আসে ইনফান্তিনোর বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক উদ্যোগ ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নিয়ে। এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা ছিল। খেলার সময় ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-কে বিজ্ঞাপনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার এবং ফাইনালের হাফ-টাইমে দীর্ঘ কনসার্ট আয়োজনের মতো পদক্ষেপ ইউরোপীয় ফুটবল মহলকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।


বাণিজ্যিকীকরণ এবং ট্রাম্পের অতিরিক্ত প্রভাব মেনে নিতে পারেনি উয়েফা ও অন্যান্য মহাদেশীয় কনফেডারেশন। তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা। সম্প্রতি উয়েফা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। ওয়েলসের মতো জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদ ধরে রাখা এখন সুইস এই কর্মকর্তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সম্পর্কিত খবর