ক্যাম্পাস
জকসুর কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বাধা, শিক্ষকসহ আহত একাধিক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ ক্যাম্পাসের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শিক্ষকসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতাদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জকসুর নেতারা। ঘটনার প্রতিবাদে বর্তমানে মিলনায়তনের সামনে বিক্ষোভ করছেন তারা।
জকসু সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের উদ্যোগ নেন জকসুর প্রতিনিধিরা। প্ল্যাকার্ডগুলোতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জকসুর নেতারা। একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং কয়েকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতা মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান এগিয়ে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওতে মেহেদী হাসান হিমেলকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দরজা বন্ধ কর। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে মিলনায়তনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জকসুর নেতারা।
ঘটনার পর জকসুর নেতাদের ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ওরা আমাদের ভাই-বোনদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। এই ছেঁড়া পোস্টারেই দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।’###







