ক্যাম্পাস

রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েটের ১৮ শিক্ষার্থী

রুয়েট প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েটের ১৮ শিক্ষার্থী- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৮ শিক্ষার্থী। রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে এ সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এর মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রাজশাহী নগর ভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত সভাকক্ষে রুয়েট শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা। এ ছাড়া প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা অর্জন তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করেছি।”


তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনের কর্মপরিবেশ, প্রকৌশল কার্যক্রম ও নগর উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। ভবিষ্যতে তাঁদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। রাসিক শুধু নাগরিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”


ভবিষ্যতে রুয়েট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে রাজশাহীকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অতিথিরা। এ সময় বর্তমান সরকারের ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখার প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হয়। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।


ইন্টার্নশিপের বিষয়ে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “আজকের দিনটি রুয়েট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন উভয়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রুয়েট শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের শুভ সূচনা হলো। সুযোগ্য সিটি প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগেই এটি সম্ভব হয়েছে। ইতোপূর্বে দায়িত্বে থাকা অনেক প্রশাসকের সময়ে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সুযোগ পাননি। আশা করি, রাসিকের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”


রুয়েট শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ায় রুয়েটের পক্ষ থেকে রাসিক প্রশাসককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।


ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, “আমাদের সিনিয়ররা এর আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাননি। আমরাই প্রথমবারের মতো এ সুযোগ পেয়েছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এ সুযোগ দেওয়ায় রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন স্যারের প্রতি আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”


উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক। ওই বৈঠকে রাজশাহী নগরীর উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্মার্ট সিটি গঠন এবং রাসিক-রুয়েটের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সে সময় রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


ইন্টার্নশিপ চলাকালে রুয়েট শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। এতে তাঁদের পেশাগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি আরও সমৃদ্ধ হবে।


সম্পর্কিত খবর