জাতীয়
আসামির সঙ্গে বিটিআরসি কর্মকর্তার প্রমোদভ্রমণ, মামলা হালকা করার অভিযোগ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামির সঙ্গে আভিযানিক দলের এক কর্মকর্তার প্রমোদভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের সময় জব্দ তালিকা ছোট করা, আসামিকে নিজস্ব ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া এবং মামলা আইনিভাবে দুর্বল করতে বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম দাউদ খান মজলিস, যিনি সংস্থাটির স্পেকট্রাম বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি অবৈধ ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ওই আভিযানিক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ মে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন দক্ষিণ পীরেরবাগের একটি ফ্ল্যাটে বিটিআরসি ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালায়। সেখান থেকে ‘মাকসুদ টেকনোলজি’ নামের অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ মাকছুদুল আলম ও তার সহযোগী এম ডি রায়হান উদ্দিনকে আটক করা হয়। কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স বা কারিগরি সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে পরদিন ১৫ মে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়।
অভিযানের সময় ওই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ ভিটিএস ডিভাইস থাকার তথ্য থাকলেও জব্দ তালিকায় মাত্র ১৩টি জিপিএস ট্র্যাকার, ১৯টি রিলে, ৫টি রিমোট ও ১৪টি সিম দেখিয়ে নামমাত্র মালামাল জব্দ দেখানো হয়। এছাড়া অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামির মোবাইল ফোন জব্দ করলেও বিটিআরসি কর্মকর্তা দাউদ খান মজলিস তার নিজের ব্যক্তিগত ফোনটি আসামিকে ব্যবহারের সুযোগ দেন এবং আলামত গোপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
সম্প্রতি মূল আসামি মোঃ মাকছুদুল আলমের ফেসবুক পেজে বিটিআরসি কর্মকর্তা দাউদ খান মজলিসের সঙ্গে প্রমোদভ্রমণের একাধিক আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি পোস্ট করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একটি সরকারি সংবেদনশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থার আভিযানিক কর্মকর্তার সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামির এমন ঘনিষ্ঠতা ও মামলা প্রভাবিত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখ তৈরি হয়েছে।







