ক্যাম্পাস

বছর গড়ালেও রাবিতে চালু হয়নি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কোডিং পদ্ধতি

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বছর গড়ালেও রাবিতে চালু হয়নি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কোডিং পদ্ধতি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নাম-রোলবিহীন কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।


শিক্ষার্থীদের মতে, খাতা মূল্যায়নে কোডিং পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন থাকবে, ফলে পক্ষপাতিত্ব, নম্বর বৈষম্য এবং ব্যক্তিগত প্রভাবের অভিযোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরের ১৪ জুলাই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নকীব প্রশাসনের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন রাখতে কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ পদ্ধতিতে খাতায় শিক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বরের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করা হবে, যাতে পরীক্ষক পরিচয় জানতে না পারেন। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ পদ্ধতি কার্যকর হয়নি।


শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমানে খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত পরিচয়, বিভাগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কিংবা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নম্বর প্রদানে প্রভাব ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে এসব অভিযোগের অবসান ঘটবে এবং মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে।


সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, এখনো নাম ও রোলবিহীন কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন না হওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে বেমানান। সনাতন পদ্ধতিতে নাম বা রোল নম্বর দৃশ্যমান থাকায় খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অবচেতনভাবেই পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্যের একটা ঝুঁকি থেকে যায়, যা শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ার পরও বাস্তবায়ন না করাটা হতাশাজনক। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের মনে শতভাগ আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এই কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করা। মেধার প্রকৃত মূল্যায়নের স্বার্থে এই সংস্কারটি এখন সময়ের দাবি।


ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ রাইহান বলেন, প্রশাসন নাম-রোলবিহীন কোডিং পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দিলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। এটা প্রশাসনের এক ধরনের ব্যর্থতা। বর্তমান সময়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শিক্ষাবান্ধব মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই কোডিং পদ্ধতি কার্যাকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা। সঠিকভাবে এই পদ্ধতি চালু করা গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমি মনে করি।


জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো: হাসনাত কবীর বলেন, "টেকনিক্যাল কিছু সমস্যার কারণে আমরা এখনো নাম ও রোল বিহীন কোডিং পদ্ধতিটি চালু করতে পারিনি। এটা সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। আমরা আশা করি নতুন ব্যাচ অর্থাৎ ২০২৫-২৬ ব্যাচ থেকে শুরু করতে পারবো। আমলাতান্ত্রিক কোনো জটিলতা নেই শুধু টেকনিক্যালি কিছু জটিলতা আছে। নতুন ব্যাচ থেকে শুরু হয়ে গেলে আস্তে আস্তে সব ব্যাচেরই আমরা শুরু করতে পারবো।"


উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি নাম ও রোল বিহীন খাতা মুল্যায়ন করা। গত বছরের ২৯ জুন ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল রোলবিহীন খাতা মূল্যায়নের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিলো, শিক্ষকরা পরিচিত শিক্ষার্থীদের বাড়তি নম্বর ও অপছন্দের শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দিয়ে থাকেন, যা মূল্যায়নের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।


সম্পর্কিত খবর