ক্যাম্পাস

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সমঝোতায় স্থগিত বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি

ইবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সমঝোতায় স্থগিত বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি: প্রাইম বাংলাদেশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই কর্মসূচি স্থগিত করায় পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত। এ নিয়ে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়। ফলে সকাল থেকেই প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধান ফটক এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।


সংঘর্ষ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসনের কাছে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করা হয়। তবে পরে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই কর্মসূচি স্থগিত করে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি উভয়ই তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। বৈঠকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতার বিষয়ে দুই সংগঠন সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের সামনে দুই সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। জামায়াত-বিএনপি কর্মসূচি দিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব।”


শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, “৫ তারিখের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এর সমাধানের জন্য আমরা প্রক্টর অফিসে শিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা সবসময় বদ্ধপরিকর।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। একাডেমিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আশা করি, আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।”


ইবি ও মিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, “দুই দলের নেতৃবৃন্দ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের নেতৃত্বে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনো বহিরাগত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইবির এক ছাত্রদল নেতা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অন্যদিকে জিয়া মোড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির। পরে প্রধান ফটক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


সম্পর্কিত খবর